২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১
Home » Parallax Page » জাতীয় » রাজশাহীতে মৃত ব্যাক্তির নামে মামলার রহস্য উন্মোচন

রাজশাহীতে মৃত ব্যাক্তির নামে মামলার রহস্য উন্মোচন

উত্তরবঙ্গ প্রতিদিনে প্রকাশিত সংবাদটি শেয়ার করুন
  • 79
  • 58
  •  
  • 55
  • 20
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    212
    Shares

নিজস্ব সংবাদদাতা, উত্তরবঙ্গ প্রতিদিন :: রাজশাহীতে ৮ বছর আগে মারা যাওয়া ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলার দেওয়ার ঘটনায় প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করতে গিয়ে বেড়িয়ে এসেছে আসল রহস্য । ঘটনার মৃত ব্যক্তির পরিচয় গোপন করে সঠিক তথ্য না দেওয়ার মামলা দেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন রাজশাহী শ্রম পরিদর্শক আজহারুল ইসলাম । তিনি আরও বলেন রাজশাহী কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরে পক্ষে এই মামলা দেওয়া হয়েছে । তিনি ঘটনার প্রমানাদিসহ সাংবাদিককে বলেন কেন মৃত ব্যাক্তির বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছিল তা আমার নিম্ন ঘটনা গুলো পর্যালোচনা করলেই পেয়ে যাবেন ।

প্রকৃত ঘটনা এই যে, স্মৃতি স্বরুপ বাসনালয়, সাহেববাজার, রাজশাহীর দোকানটি গত ০৫/০৭/২০১৯ এবং ১২/০৭/২০১৯ তারিখে সাপ্তাহিক বন্ধের দিন শুক্রবার মামলার ফরিয়াদি (আজহারুল ইসলাম) এবং তাঁর সহকর্মী মোঃ তারকে হাসান, শ্রম পরর্দিশক (সাধারণ) সহ সরেজমিনে পরিদর্শন কালে দোকান সর্ম্পূণ খোলা রাখিয়া ব্যবসা কার্য পরিচালনা করতে দেখতে পাওয়া যায় । পর্রতীতে ১৯/০৭/২০১৯ তারিখেও উল্লেখিত দোকানটি সাপ্তাহিক বন্ধের দিন শুক্রবার সর্ম্পূণ খোলা রাখিয়া ব্যবসা কার্য পরিচালনা করতে দেখা যায় ।

এরপর ১১/১০/২০১৯ তারিখেও সাপ্তাহকি বন্ধের দিন শুক্রবার উল্লেখিত দোকানটি খোলা রাখিয়া ব্যবসা র্কায পরিচালনা করতে দেখা যায় । দোকানের মালিকের নাম জিজ্ঞাস করা হলে উল্লেখিত দোকান পরিচালনার দ্বায়িত্বে নিয়োজিত মোঃ আরিফুল ইসলাম (আরিফ) মালিকের নাম বাবলু মিয়া বলে দাবি করেন এবং ট্রেড লাইসন্সে এর ফটোকপি এবং প্রোপ্রাইটরের নামের সমর্থনে একটি ভিজিটিং কার্ড সরবারহ করেন। ফলে অত্র দপ্তর হতে ১৭/০৭/২০১৯ তারিখে ৪০.০১.৮১০০.০০০.০০১.১৮.১৫ নং পত্রে সাপ্তাহিক বন্ধের দিন শুক্রবার দোকান খোলা রাখার কারণ জানানো জন্য গ্যারান্টিড এক্সপ্রেস পোস্ট ডাকে তিন দিনের সময় দিয়ে পত্র প্রেরণ করা হয় ।

এরপর ২৪/০৭/২০১৯ তারিখে ৪০.০১.৮১০০.০০০.০০১.১৮.১২৮ নং পত্রে একই বিষয়ে গ্যারান্টিড এক্সপ্রেস পোস্ট ডাকে তিন দিনের সময় দিয়ে পত্র প্রেরণ করা হয়। পর্রতীতে ১৫/১০/২০১৯ তারিখে ৪০.০১.৮১০০.০০০. ০০১.১৮.১১০৮ নং পত্রে উল্লেখিত বিষয়ে পূণরায় রেজিষ্ট্রি ডাক যোগে পত্র প্রেরণ করা হলে দোকানের মালিক পরিচালনার দ্বায়িত্বে নিয়োজিত বাবলু মিয়ার ছেলে আরিফুল ইসলাম আরিফ উক্ত তিনটি পত্রের কোন জবাব প্রদান করেন নাই। এমন কি তার পিতা বাবলু মিয়া মারা গিয়েছেন এমন বক্তব্য দিয়ে ডাক বিভাগের চিঠি বিলিকারীর নিকট এ বিষয়ে কোন মন্তব্য না করে পত্র গুলো গ্রহন করেছেন। তিনি তার পিতা মারা গিয়েছেন এমন কোন তথ্য দিয়ে পত্র গুলো ফেরত প্রদান করেন নাই । বাবলু মিয়ার ছেলে আরিফুল তার পিতা বাবলু মিয়া মারা যাওয়ার পরেও তার পিতার নাম ব্যবহার করে ট্রেড লাইসেন্স এবং ভিজিটিং কার্ড এর কপি সরবারহ করে তার পিতাকে মালিক হিসাবে দাবি করেন ।

যখন অত্র দপ্তর থেকে পর পর তিনটি পত্র প্রেরণ করা হলেও কোন জবাব না পাওয়া গেলে উপ মহা পরিদর্শকের প্রশাসনিক অনুমোদন গ্রহন করে শ্রম আদালতে মামলা দায়ের করা হয় । বাবলু মিয়ার ছেলে আরিফুল উদ্দেশ্য প্রনোদীত ভাবে তার হীন স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য সত্য তথ্য প্রকাশ না করে মিথ্যা তথ্য প্রকাশ করায় এ ধরনের অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শক অধিদপ্তরের শ্রম পরিদর্শক আজহারুল ইসলাম ।

তিনি আরও বলেন, বাবলু মিয়ার ছেলে আরিফুল ইসলাম তার পিতা মৃত্যু বরন করেছে এমন কোন দাবি করা হলে তার পিতা বাবলু মিয়ার নামে শ্রম আদালতে মামলা রুজু করার প্রশ্নই উঠতো না । বাবলু মিয়ার ছেলে আরিফুল ইসলাম মামলা রুজুর পরে আদালতের সমন পাওয়ার প্রেক্ষিতে তিনি তার পিতা বাবলু মিয়া মারা গিয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে । বর্তমানে দোকানের নাম ইতোমধ্যে পরিবর্তন করে নিউ বাসনালয় করা হয়েছে । নতুন মালিক রফিকুল ইসলাম, বাবলু মিয়ার ভাই । আরিফুল এই নামে নতুনভাবে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে । আদালতের নির্দেশ মোতাবেক বিষয়টি বিস্তারিতভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছি এবং ক্ষমা প্রার্থনা করেছি । মাননীয় আদালত গত ২০/০৯/২০২০ তারিখে আদেশ নং ১০ তে মামলার ফরিয়াদীকে কারণ দর্শানোর দায় হইতে অব্যাহতি প্রদান করেছেন । এছাড়া বাবলু মিয়াকে অভিযোগের দায় হতে অব্যাহতি প্রদান করে মামলার নথি জাত করেছেন। এরপরও কতিপয় ব্যক্তি অতি উৎসাহিত হয়ে মিমাংশিত ঘটনাটির সংবাদ পত্রে প্রকাশের উদ্যোগ গ্রহণ করায় কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের সুনাম ক্ষুন্নসহ মামলার ফরিয়াদীর সুদীর্ঘ ৩৫ বছরের চাকুরী জীবনের সুনাম ক্ষুন্ন করা হয়েছে বলে মনে করেন শ্রম পরিদর্শক সংশ্লিষ্টরা ।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ (সংশোধিত ২০১৮) ধারা-৩৩৫, সরল বিশ্বাসে কৃত কাজকর্ম রক্ষণ অনুযায়ী এই আইন, বিধি, প্রবিধান বা স্কীমের অধীন সরল বিশ্বাসে সম্পাদিত বা সম্পাদনের জন্য অভিষ্ঠ কোন কাজের জন্য কোন ব্যক্তি বা কতৃপক্ষের বিরুদ্ধে কোন দেওয়ানী বা ফৌজদারী মামলা রুজু বা অন্য কোন আইনগত কার্যক্রম গ্রহন কয়া যাইবে না মর্মে উল্লেখ রয়েছে ।


উত্তরবঙ্গ প্রতিদিনে প্রকাশিত সংবাদটি শেয়ার করুন
  • 79
  • 58
  •  
  • 55
  • 20
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    212
    Shares

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।