৪ বছরের শিশুকেও ৩ দিন ধরে আটক করে রাখেন এসআই জাহিদ

জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত আবু আব্দুল্লাহ জাহিদের বিরুদ্ধে মানববন্ধনের ছবি
জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত আবু আব্দুল্লাহ জাহিদের বিরুদ্ধে মানববন্ধনের ছবি

চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ফিরে আনোয়ার হোসেন :: গতকাল উত্তরবঙ্গ প্রতিদিনে প্রকাশিত হয় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা ডিবির অন্যত্তম অফিসার  ও মাদক ব্যবসায়ীদের আতংক এসআই আবু আবদুল্লাহ জাহিদ আমলনামার একাংশ। আর সেই ধারাবাহিকতায় ওসি প্রদীপের উত্তরসূরি হিসেবে অবদান রাখছেন এসআই আবু আবদুল্লাহ জাহিদ এতে বিন্দু পরিমান সন্দেহের অবকাশ নেই বলে মনে করছেন সুশীল সমাজের সংশ্লিষ্ট মহল।

অবশ্য পিপিএম পদকও পেয়েছেন তিনি।তারপরই তার দ্মৌরাত্বের শেষ নেই। সত্যি এতটাও ভয়ংকর উনি যে সাংবাদিকরাও তার ভয়ে তটস্থ। বিধায় তার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ তো দূরের কথা তাকে বেশীরভাগ গনমাধ্যম কর্মীরা কোন বিষয় জানার জন্য ফোন পর্যন্ত দেননা।

তাইতো দেখতে দেখতে ৪টা বছর পার করে দিয়েছেন শুধু চাঁপাইনবাবগঞ্জ ডিবিতে। বিষয়টা অনেকটা এইরকম যেন বেসরকারি কোম্পানির চাকুরী করছেন।

যাই হোক, কিন্তু এই ৪ বছরে তার অনেক কিছু অর্জন থাকলেও ঘুষ,দুর্নীতি ও গ্রেফতার বানিজ্যেও পিছিয়ে নেই তিনি।

অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের ২য় পর্বের ধারাবাহিক প্রতিবেদন আজ প্রকাশ হল-

গ্রেফতার বানিজ্য – ৪

০৩/০৮/২০২০ ইং তারিখে এসআই জাহিদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ থানাধীন তেলকুপি এলাকায় রিফুজি পাড়া থেকে মাদক ব্যবসায়ী সন্দেহে রিপন নামের একজনকে গ্রেফতার করে।

এরপর ৬০ হাজার টাকায় রফাদফা করেন । উক্ত ঘটনায় জিন্নাত ওরফে জিন্নু মেম্বারের কাছে টাকা নেন এসআই জাহিদ ।

গ্রেফতার বানিজ্য – ৫

গত ১৪/০৮/২০২০ সময় ২ঃ৩০-৩ঃ৩০ মিনিটে এসআই জাহিদ তার নিজস্ব টিম নিয়ে ইসমাইল হোসেন, পিতাঃআব্দুল খালেক, আজমতপুর মোন্নাটোলা কে তাহার নিজ বাড়ি হতে ডেকে নিয়ে গিয়ে তাহার প্বার্শবর্তী সাইদুর এর বাসায় নিয়ে যায়। সাইদুরের বাসায় তল্লাশি চালায় কোন কিছু না পেলে এক পর্যায়ে কথা কাটাকাটি সৃষ্ট হয়। এক পর্যায়ে সাইদুুর এবং সাইদুরের স্ত্রীসহ যুবতি মেয়েকে মহিলা পুলিশ ছাড়াই তাদের গায়ে হাত দিয়ে টানতে টানতে নিয়ে গাড়িতে তুলে।

আবার ১ ঘন্টার ব্যবধানে ইসমাইল এর বাড়িতে গিয়ে বাড়ীর কাউকে না ঢুকতে দিয়ে এসআই জাহিদ অস্ত্র উদ্ধার দেখায়,তখন এটা সাজানো নাটক বলে ইসমাইল এর মা সহ অনেকেই প্রতিবাদ করায় ইসমাইলের মা সহ ইসমাইলের ৪ বছরের ছোট ভাইকেসহ জোর পুর্বক তুলে নিয়ে যান এসআই জাহিদ।

পরের দিন ইসমাইলকে অস্ত্র সহ চালান দিলেও অজ্ঞাত কারনে ৩ দিন ধরে ইসমাইলের মা ও ইসমাইলের আপন ছোট ভাই ৪ বছরের শিশু বাচ্চাকে গুম করে রেখে ১ লক্ষ টাকার বিনিময়ে ইসমাইলের মা ও ইসমাইলের আপন ছোট ভাইকে মুক্তি দেন।

এদিকে সাইদুর, সাইদুরের স্ত্রী ও যুবতি মেয়েকে মেন্টাল টর্চার করে তাদের কাছ থেকেও ৩দিন আটক রেখে ১ লাখ টাকা নিয়ে তাদের মুক্তি দেন।

ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সরেজমিন ঘটনা স্থলে গেলে সাংবাদিকদের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন এলাকাবাসী জানান – সাইদুর ও ইসমাইলের পরিবারের সাথে যে ঘটনা ঘটেছে তা ওসি প্রদীপ ও ইন্সপেক্টর লিয়াকতের কর্মকান্ডের শামিল।এখন আতংকে ওলাকার কেউই মুখ খুলতে চাচ্ছেননা।

উল্লেখ্য যে, ২০১৩ সালেও মাদক সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সিলেট জেলার কানাইঘাট এলাকাবাসী এই এসআই জাহিদের কুকর্মে অতিষ্ঠ হয়ে তার বিরুদ্ধে মানববন্ধন পর্যন্ত করেন।  যে সংবাদ দৈনিক যুগান্তর,দৈনিক জনতাসহ সিলিটের বেশ কিছু দৈনিকে ঐ সংবাদ প্রকাশ হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Uttorbongo Protidin

Uttorbongo Protidin ।। 24x7upnews.com Covering all latest Breaking, Bangla, Live, International and Entertainment news.