বিশেষ বিজ্ঞপ্তি :
সুপ্রিয় সন্মানিত পাঠক, আপনি কি উত্তরবঙ্গ প্রতিদিনের নিয়মিত পাঠক? আপনি কি এই পত্রিকায় লিখতে চান? কেন নয় ? সমসাময়িক যেকোনো বিষয়ে আপনিও ব্যক্ত করতে পারেন নিজের চিন্তা, অভিমত, পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ। স্বচ্ছ ও শুদ্ধ বাংলায় যেকোনো একটি সুনির্দিষ্ট বিষয়ে  লিখে পাঠিয়ে দিতে পারেন ইমেইলে কিংবা ফোন করেও জানাতে পারেন আপনাদের।  আমাদের যে কোন সংবাদ জানানোর ৩টি মাধ্যম।🟥১। মোবাইল: ০১৭৭৭৬০৬০৭৪ / ০১৭১৫৩০০২৬৫ 🟥২। ইমেইল: upn.editor@gmail.com🟥৩। ফেসবুক : facebook.com/Uttorbongoprotidin  

নিজস্ব প্রতিনিধি,উত্তরবঙ্গ প্রতিদিন::শহরের তিনটি স্থানে এখন প্রতিদিন পরিবহন শ্রমিক সংগঠনের নামে চাঁদা তোলা হয়। কিন্তু চাঁদার প্রতিদিনের প্রায় এক লাখ টাকার তেমন হদিস পাওয়া যায় না। বাস ও ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের কয়েকজন নেতার হাত পর্যন্ত পৌঁছার পর এই টাকার বড় অংশের কোনো খোঁজ থাকে না। প্রতিদিন লাখ টাকা চাঁদা তোলা হলেও এগুলো ট্রাক এবং বাস শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা আত্মসাৎ করছেন বলে সাধারণ শ্রমিকদের অভিযোগ। আর বেপরোয়া চাঁদাবাজির কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বাড়ছে। ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বাসযাত্রীরা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাজশাহী ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়ন ও মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন যৌথভাবে পরিবহন থেকে চাঁদা তুলে থাকে। মাত্র কয়েকদিন আগেও রাজশাহী মহানগরীর চারটি স্থানে ট্রাক ও বাস থেকে চাঁদা তোলা হতো। এসব স্থান হলো, শিরোইল বাস টার্মিনাল, তালাইমারী, আমচত্বর ও কাশিয়াডাঙ্গা। এরমধ্যে কাশিয়াডাঙ্গা মোড়ে চাঁদা তোলা হতো সিটি করপোরেশনের নামে।

ত ১৩ মে সিটি করপোরেশনের ভ্রাম্যমাণ আদালত কাশিয়াডাঙ্গা এলাকায় অভিযান চালিয়ে হাসমত আলী, গোলাম রসুল, মোজাহার আলী ও জহিরুদ্দিন রহমান নামে চারজনকে আটক করে। এরপর ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে তাদের কারাদণ্ড দেয়া হয়। এ সময় ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের কাছ থেকে গত দুই বছরের চাঁদা আদায়ের স্লিপ জব্দ করে। এতে টাকার পরিমাণ ৫ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

পরিবহন শ্রমিকরা জানান, রাজশাহী মহানগরীতে পরিবহন থেকে যে চাঁদা তোলা হয় তার ৬০ ভাগ পায় ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়ন। আর ৪০ ভাগ থাকে মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের। কিন্তু এই দুই সংগঠনের তহবিলে নগরীর অন্য তিন স্থান থেকে তোলা টাকা তো দূরের কথা, দুই বছরে কাশিয়াডাঙ্গা থেকেই যে টাকা তোলা হয়েছে তা নেই। দুই সংগঠনের তহবিলে আছে মাত্র কয়েক লাখ করে টাকা।

সূত্র জানায়, এখন কাশিয়াডাঙ্গা মোড়ে চাঁদা তোলা বন্ধ আছে। কিন্তু অন্য তিন জায়গা থেকে এখনও চাঁদা তোলা হচ্ছে বেপরোয়াভাবে। প্রতিটি বাস থেকে নেওয়া হয় ৫০ থেকে ১০০ টাকা। আর ট্রাক থেকে নেওয়া হয় সর্বনিম্ন ১০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৭০০ টাকা পর্যন্ত। প্রতিদিন ট্রাক থেকে চাঁদা ওঠে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা। আর বাস থেকে ওঠে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা। গড়ে মোট টাকার পরিমাণ প্রায় এক লাখ।

কিন্তু ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের কোষাধ্যক্ষ মিজানুর রহমান পলক ও মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের কোষাধ্যক্ষ আনন্দ জানিয়েছেন, তাদের সংগঠনের তহবিলে তেমন টাকা নেই। তহবিলের টাকার পরিমাণ সুনির্দিষ্টভাবে না জানালেও কয়েক লাখ করে টাকা জমা থাকতে পারে বলে তারা জানিয়েছেন।

এদিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, শিরোইল বাস টার্মিনাল এলাকায় বাবু নামে এক ব্যক্তি টোকেন দিয়ে চাঁদা তোলেন। আর তালাইমারী মোড়ে চাঁদা তোলেন গাজী ও সোনা নামে দুই ব্যক্তি। তাদের হাতে লাঠিও থাকে। রাজশাহীর পরিবহনগুলো তাদের সামনে নিয়ে যাওয়ার সময় এমনিতেই টাকা দিয়ে যায়। তবে বাইরের জেলাগুলো থেকে আসা গাড়িগুলোকে লাঠি দেখিয়ে থামানো হয়। এরপর জোর করেই আদায় করা হয় টাকা। আর চাহিদামতো টাকা না দিলে আটকে রাখা হয় ঘণ্টার পর ঘণ্টা। কখনও কখনও মারধরও করা হয় ট্রাকের হেলপার ও চালকদের।

পরিবহন শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সড়ক থেকে চাঁদা তোলার পর সেই টাকা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়ন ও মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নামে ভাগ হয়ে যায়। মোটর শ্রমিকের টাকা যায় জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের আহ্বায়ক কামাল হোসেন রবি, যুগ্ম আহ্বায়ক মোমিনুল ইসলাম মোমিন ও সদস্য আলিম উদ্দীন আলীর হাতে। আর ট্রাকের টাকা যায় ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আক্কাস আলীসহ আরও কয়েকজনের হাতে। তারা এ টাকা কীভাবে খরচ করেন তা সাধারণ শ্রমিকরা জানতে পারেন না। সংগঠনের তহবিলে কত টাকা জমা হচ্ছে সেটাও জানানো হয় না। এই টাকা ইচ্ছেমতো হরিলুট করা হয় বলেই অভিযোগ পরিবহন শ্রমিকদের।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আক্কাস আলী। তিনি বলেন, দুর্ঘটনায় অনেক শ্রমিক মারা যান। তখন ৮৫ হাজার করে টাকা দিতে হয়। মেয়ের বিয়ের সময় দিতে হয় ৪৫ হাজার টাকা। এছাড়া শিক্ষাভাতাসহ অন্যান্য খরচ আছে। সে জন্য টাকা জমা থাকে না। সড়ক থেকে তোলা টাকার কোনোভাবেই নয়ছয় হয় না বলেই দাবি করেন তিনি।

একই দাবি করেন মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের আহ্বায়ক কামাল হোসেন রবি। তিনি বলেন, দিনে বড়জোর ২৪ থেকে ২৫ হাজার টাকা আসে। শ্রমিকদের বিভিন্ন ভাতা দিতে দিতেই সব টাকা শেষ হয়ে যায়। তহবিলে টাকা থাকে না। তবে কোনো টাকা লোপাট হয় না বলেই দাবি করেন তিনি।

গত ২ মে সড়ক পরিবহনে চাঁদা তোলা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন ফেডারেশন। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী ১২ মে রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার, সিটি করপোরেশনের মেয়র, পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি), রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) কমিশনার, একটি গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তা, র‌্যাব-৫ এর অধিনায়ক, জেলা প্রশাসক ও জেলার পুলিশ সুপারকে (এসপি) চিঠি দিয়ে চাঁদাবাজি বন্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করেন।

ওই চিঠিতে বলা হয়, সারাদেশের মালিক শ্রমিক প্রতিনিধির সমন্বয়ে যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি মশিউর রহমান রাঙ্গা এমপি ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতি শাজাহান খান এমপি পরিবহন সেক্টরে চাঁদাবাজি বন্ধে একাত্মতা ঘোষণা করেছেন। তাই রাজশাহীতে চাঁদাবাজি বন্ধে ওই চিঠিতে অনুরোধ করা হয়।

এ চিঠি পাওয়ার পর কেবল রাজশাহী সিটি করপোরেশন এবং র‌্যাবের পক্ষ থেকে রাজশাহী শহরের ভেতরের একটি স্থানের চাঁদাবাজি বন্ধ করা হয়েছে। কিন্তু বাকি তিন স্থানে এখনও চাঁদাবাজি চলছে। ফলে চাঁদাবাজির ব্যাপারে স্থানীয় পুলিশ-প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এ বিষয়ে সামাজিক সংগঠন রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জামাত খান বলেন, সড়কে চাঁদাবাজির কারণে পণ্যের দাম বাড়ে। যাত্রীদের সময় নষ্ট হয়। তাই চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে। তিনি বলেন, শ্রমিকদের কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকেই চাঁদা তোলা বন্ধের চিঠি দেয়ার পরও স্থানীয়ভাবে চাঁদা তোলা বন্ধ না হলে বুঝতে হবে এখানেও সংশ্লিষ্টদের স্বার্থ রয়েছে।

<!–Start BlogTopSites.com Code–>
<a target=”_blank” href=”http://www.blogtopsites.com/”><img style=”border:none;” src=”http://www.blogtopsites.com/v_264624.gif” alt=”blogging tips” /></a><br /><a target=”_blank” href=”http://www.blogtopsites.com” style=”font-size:10px;”>blogging tips</a>
<!–End BlogTopSites.com Code–>

 

সংবাদটি শেয়ার করুন-
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  


© All rights reserved © 2016-2021 24x7upnews.com - Uttorbongo Protidin Trusted Online Newsportal from Rajshahi, Bangladesh.