বিশেষ বিজ্ঞপ্তি :
সুপ্রিয় সন্মানিত পাঠক, আপনি কি উত্তরবঙ্গ প্রতিদিনের নিয়মিত পাঠক? আপনি কি এই পত্রিকায় লিখতে চান? কেন নয় ? সমসাময়িক যেকোনো বিষয়ে আপনিও ব্যক্ত করতে পারেন নিজের চিন্তা, অভিমত, পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ। স্বচ্ছ ও শুদ্ধ বাংলায় যেকোনো একটি সুনির্দিষ্ট বিষয়ে  লিখে পাঠিয়ে দিতে পারেন ইমেইলে কিংবা ফোন করেও জানাতে পারেন আপনাদের।  আমাদের যে কোন সংবাদ জানানোর ৩টি মাধ্যম।🟥১। মোবাইল: ০১৭৭৭৬০৬০৭৪ / ০১৭১৫৩০০২৬৫ 🟥২। ইমেইল: upn.editor@gmail.com🟥৩। ফেসবুক : facebook.com/Uttorbongoprotidin  

স্টাফ রিপোর্টার , উত্তরবঙ্গ প্রতিদিন ::- গুরুতর অসুস্থ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে দেখতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে গেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে দলটির একটি প্রতিনিধিদল।

রোববার (৩ মার্চ) রাত ৯টা ৪৮ মিনিটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে পৌঁছান ফখরুলের নেতৃত্বে বিএনপির তিন সদস্যের এই প্রতিনিধদল।

বিএনপির প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যরা হলেন- দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান ও ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ।

হাসপাতালে পৌঁছে মির্জা ফখরুল ডি ব্লকের কার্ডিওলজি বিভাগের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন সরকার দলের সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে দেখা করতে যান।

এদিকে রাত পৌনে ৮টার দিকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে ঢাকায় পৌঁছানো সিঙ্গাপুরের চার সদস্যদের চিকিৎসকদল হাসপাতালে ওবায়দুল কাদেরের শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা নিরীক্ষা করেছেন। এরপর তারা এই হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন।

এদিকে সন্ধ্যা পৌনে ৬টায় ব্রিফিংয়ে বিএসএমএমইউ-এর কার্ডিওলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক সৈয়দ আলী আহসান জানান, লাইফ সাপোর্টে থাকা ওবায়দুল কাদের চোখ খুলে সাড়া দিলেও এখনো ক্রিটিক্যাল অবস্থায় আছেন।

তিনি বলেন, ‘ওবায়দুল কাদেরের শারীরিক অবস্থার এখনো তেমন উন্নতি হয়নি। তিনি পা নাড়াতে পারছেন, চোখও খুলছেন। তবে তার শারীরিক অবস্থা এখনো ক্রিটিক্যাল।’

চিকিৎসার শুরু থেকে সকল বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ওবায়দুল কাদেরকে হাসপাতালে নিয়ে আসার পর যা যা চিকিৎসা দেওয়া দরকার, সেগুলো তাঁকে দিয়েছি। তারপর তাকে নিয়ে আসা হয় ক্যাথ ল্যাবে।’

‘এনজিওগ্রাম করে দেখা গেল, তার তিনটি আর্টারি ব্লকড। তার আগে থেকেই ডায়াবেটিস ছিল, সেটাও অনিয়িন্ত্রত ছিল, অনেক বেশি হয়ে গিয়েছিল।’

‘তাঁর ব্লক হওয়া তিনটি রক্তনালীর মধ্যে বাম পাশের যেটা হৃদযন্ত্রের দুই-তৃতীয়াংশ রক্ত সরবরাহ করে, যেটাকে আমরা এলএডি আর্টারি বলি, সেটা খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেই। সেটা খুলে দিলেই হয়তো উন্নতি হবে।’

তিনি বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে পিসিআইয়ের মাধ্যমে তার ওই ধমনিতে রিং পরিয়ে ব্লকটি খুলে দেওয়া হয়। এরপর তিনি দুই ঘণ্টার মতো ভালো ছিলেন।’

‘তারপর দেখা গেছে, রক্তচাপ কিছুটা কমে যাচ্ছে, আবার কিছুটা বেড়ে যাচ্ছে। সবার সঙ্গে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, আইবিপি প্রতিস্থাপন করা হবে, এই যন্ত্র রক্তচাপকে নিয়ন্ত্রিত রাখে।’

সর্বশেষ অবস্থা প্রসঙ্গে অধ্যাপক আলী আহসান বলেন, ‘আইবিপি প্রতিস্থাপনের পর তিনি চোখ খুলছেন, কথা বলছেন, কিন্তু ক্রিটিক্যাল অবস্থাতে আছেন। তিনি পা নাড়ছেন, চেষ্টা করছেন কথা বলার। এই অবস্থাতেই তিনি আছেন।’

আলী আহসান আরও বলেন, ‘হেমোডাইনামিক্যাল স্ট্যাবিলিটি যদি আরও কিছু সময় থাকে, চিকিৎসার জন্য আমাদের সিদ্ধান্ত হবে দুইটি; মেডিক্যাল থেরাপিতে যেতে পারি অথবা বাইপাস সার্জারি করতে পারি। এছাড়াও তাঁর অন্যান্য আর্টারি যেগুলোতে ব্লক রয়েছে, সেগুলো খুলে দেওয়ার জন্য বাইপাস করতে পারি।’

তিনি বলেন, ‘সময়ের সঙ্গে তাঁর শারীরিক অবস্থা বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আমি আগেই বলেছি, ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টা না গেলে কিছুই বলা যাবে না। উনি এখনও ক্রিটিক্যাল অবস্থায় আছেন। আমি তাঁর সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া প্রার্থনা করছি।’

‘এই অবস্থায় তাকে দেশের বাইরে পাঠাতে গেলে; তার শারীরিক অবস্থা আনস্ট্যাবল হতে পারে।‘

তিনি বলেন, ‘সিঙ্গাপুরের চিকিৎসকদল যদি মনে করে, যে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় তাদের এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে পর্যাপ্ত চিকিৎসা সরঞ্জাম ও জনবল আছে, তাহলে তারা নিয়ে যেতে পারবেন।’

সংবাদটি শেয়ার করুন-
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  


© All rights reserved © 2016-2021 24x7upnews.com - Uttorbongo Protidin Trusted Online Newsportal from Rajshahi, Bangladesh.