বিশেষ বিজ্ঞপ্তি :
সুপ্রিয় সন্মানিত পাঠক, আপনি কি উত্তরবঙ্গ প্রতিদিনের নিয়মিত পাঠক? আপনি কি এই পত্রিকায় লিখতে চান? কেন নয় ? সমসাময়িক যেকোনো বিষয়ে আপনিও ব্যক্ত করতে পারেন নিজের চিন্তা, অভিমত, পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ। স্বচ্ছ ও শুদ্ধ বাংলায় যেকোনো একটি সুনির্দিষ্ট বিষয়ে  লিখে পাঠিয়ে দিতে পারেন ইমেইলে কিংবা ফোন করেও জানাতে পারেন আপনাদের।  আমাদের যে কোন সংবাদ জানানোর ৩টি মাধ্যম।🟥১। মোবাইল: ০১৭৭৭৬০৬০৭৪ / ০১৭১৫৩০০২৬৫ 🟥২। ইমেইল: upn.editor@gmail.com🟥৩। ফেসবুক : facebook.com/Uttorbongoprotidin  
আজ ১৩ মে ২০২১ বৃহস্পতিবার ৭:২৫ অপরাহ্ন রাজশাহী,বাংলাদেশ ।। ইংরেজীতে পড়ুন উত্তরবঙ্গ প্রতিদিন Bengali Bengali English English

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ::- ভালোবাসা রঙহীন। এ যেন এক স্বর্গীয় অনুভূতি। প্রকাশের ভাষা থাকে না। আর সেই ভালোবাসা যদি নাড়ির টানে হয়- তার তুলনা তিনি নিজেই। স্বার্থহীন এ ভালোবাসা শুধু একজনের কাছেই আছে। স্নেহ মেশানো নরম তুলতুলে সেই ভালোবাসা দিতে পারেন শুধু একজনই, তিনি হলেন ‘মা’।

তেমনই এক মা সুখিরন নেছা (৭৫)। যিনি হারিয়ে যাওয়া বড় ছেলে শহিদুল ইসলামকে ফিরে পাওয়ার পর প্রায় ৪৫ বছর ধরে টানা রোজা রাখছেন। মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত রোজা রাখবেন এমন সংকল্প এই মায়ের।

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বাজার গোপালপুর গ্রামের মৃত আবুল খায়েরের স্ত্রী সুখিরন নেছা।

জানা যায়, সময়টা ১৯৭৫ সাল। দেশের পরিস্থিতি তখন ভালো না। বড় ছেলে শহিদুলের বয়স তখন মাত্র ১১ বছর। কোনো এক সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসে না। চারদিকে খোঁজাখুঁজি। কিছুতেই পাওয়া যাচ্ছিল না তাকে। মা সুখিরন পাগলের মতো এদিক-ওদিক ছুটতে থাকেন। কিছুতেই শহিদুলকে যখন ফিরে পাওয়া গেল না, তখন তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন- ছেলেকে ফিরে পাওয়ার পর থেকে মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত রোজা রাখবেন। সুখিরন নেছা বলেন, এ সিদ্ধান্ত নেয়ার চার দিন পর ছেলে শহিদুল ইসলাম বাড়ি ফিরে আসে। বাড়ির উঠানে দাঁড়িয়ে মা বলে চিৎকার করে সে। মা ডাক শুনে ঘর থেকে বেরিয়ে এসে বুকে আগলে ধরেন নাড়িছেঁড়া ধন।

সেই থেকে রোজা রাখছেন সুখিরন। এখন তার বয়স প্রায় ৭৫ বছর। তিন ছেলে তিন মেয়ের জননী তিনি। বয়সের ভারে প্রতিদিন রোজা রাখতে কষ্ট হয় তার। কিন্তু রোজা ছাড়ছেন না। মৃত্যুর দিন পর্যন্ত রোজা-নামাজ আদায় করে যেতে চান এই মমতাময়ী মা।

বড় ছেলে শহিদুল ইসলাম নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, আমার জন্য মা কষ্ট করে রোজা রাখেন। বারণ করলেও শোনেন না। সংসারে যা জুটে তা দিয়ে ইফতার ও সেহরি সারেন মা। কারণ রোজা রাখার সিদ্ধান্তে আমাকে বুকে ফিরে পেয়েছেন বলে মনে করেন মা।

তিনি বলেন, মা তো মা। মায়ের কোনো বয়স লাগে না। সময় লাগে না। মা শুধু সন্তানকে দিতেই যানে, নিতে যানে না। সন্তানের মঙ্গলের জন্য সব ত্যাগ শিকার করতে পারেন মা। তাদের মধ্যে আমার মা সুখিরন একজন। পৃথিবীর সব ভালোবাসাকে তাক লাগিয়ে মা যে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তার জন্য গোটা মায়ের জাতকে আকাশসম উঁচু করেছেন। গর্বিত করেছেন গোটা দুনিয়ার সন্তানদের।
…………………………………………………………………………………………………………………………………….. উত্তরবঙ্গ প্রতিদিন সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো।

সংবাদটি শেয়ার করুন-
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  


আজ ১৪ মে ২০১৯ মঙ্গলবার ৬:৩৪ অপরাহ্ন রাজশাহী,বাংলাদেশ ।। ইংরেজীতে পড়ুন উত্তরবঙ্গ প্রতিদিন Bengali Bengali English English
© All rights reserved © 2016-2021 24x7upnews.com - Uttorbongo Protidin