স্টাফ রিপোর্টার,উত্তরবঙ্গ প্রতিদিন:: রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের দুই নেতার বিরুদ্ধে সংগঠনের কয়েক কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহাতাব হোসেন চৌধুরী সংবাদ সম্মেলন করে এই অভিযোগ তুলেছেন। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের এই কাউন্সিলর শুক্রবার সকালে নিজের কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন।

সেখানে তিনি শ্রমিক ইউনিয়নের বর্তমান আহ্বায়ক কামাল হোসেন রবি ও যুগ্ম আহ্বায়ক মোমিনুল ইসলাম মোমিনের বিরুদ্ধে লুটপাটের অভিযোগ তোলেন। মাহাতাব যখন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তখন রবি ছিলেন সভাপতি। এরপর ২০১৭ সালের মে মাসে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তারা একই পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেন। কিন্তু সংঘর্ষের কারণে ওই নির্বাচন স্থগিত হয়ে যায়। এরপর তিন মাসের জন্য আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হলে রবি হন আহ্বায়ক আর মোমিন যুগ্ম আহ্বায়ক।

সংবাদ সম্মেলনে মাহাতাব হোসেন বলেন, নির্বাচনে রবির পরাজয় ঘটছিল। সে জন্য ২৬ লাখ টাকায় সন্ত্রাসীদের ভাড়া করে ভোট কেন্দ্রে হামলা চালান তিনি। এরপর স্থানীয় নেতাদের ম্যানেজ করে তিনি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করিয়ে নেন। তারপর তিন মাসের কমিটি নিয়ে তিনি দুই বছর পার করেছেন। কিন্তু নির্বাচনের কোনো ব্যবস্থা করছেন না। কারণ, শ্রমিকরা তাকে চান না। জনপ্রিয়তা থাকলে তিনি নির্বাচন করতেন। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করলে তিনি নিশ্চিতভাবে পরাজিত হবেন।

তিনি অভিযোগ করেন, নগরীতে শ্রমিক ইউনিয়নের নামে পরিবহন থেকে চাঁদা তোলা হয়। কিন্তু এর একটি টাকাও রবি সংগঠনের তহবিলে জমা করেন না। রবির কাছে মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের হাসপাতালের ৬০ লাখ টাকা জমা আছে। ওই টাকাও তহবিলে দেননি রবি। এছাড়া শ্রমিক ইউনিয়নের একটি ভবনের শেয়ার বিক্রি করেন রবি। শেয়ারের ৭০ লাখ টাকাও আত্মসাত করেছেন তিনি।

মাহাতাব অভিযোগ করেন, নগরীর নওদাপাড়া বাস টার্মিনালে দুই কোটি টাকায় বিভিন্ন পরিবহনের কাছে কাউন্টার বিক্রি করা হয়েছে। এ টাকাও শ্রমিক ইউনিয়নে জমা করা হয়নি। এছাড়া রবি চিকিৎসার নামে শ্রমিক ইউনিয়ন থেকে ১০ লাখ টাকা নিয়েছেন। সে টাকাও তিনি ফেরত দেননি।

সংবাদ সম্মেলনে মাহাতাব হোসেন চৌধুরী শ্রমিক ইউনিয়নের যুগ্ম আহ্বায়ক মোমিনুল ইসলাম মোমিনের বিরুদ্ধে লুটপাটের অভিযোগ তুলে বলেন, তিনি প্রতিটি ১৭ হাজার টাকায় প্রায় এক হাজার শ্রমিক কার্ড বিক্রি করা হয়েছে। কিন্তু এই টাকাও শ্রমিক ইউনিয়নে নেই। সব লুটপাট হয়েছে। মোটর শ্রমিক ইউনিয়নে কামাল হোসেন রবি ও মোমিনুল ইসলাম মোমিন এখন রামরাজত্ব কায়েম করেছেন।

রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের নেতা মাহাতাব বলেন, শ্রমিকদের টাকা আত্মসাত করে রবি বিপুল অর্থ-সম্পদের মালিক হয়েছেন। একইভাবে মোমিনুল ইসলাম মোমিনও গড়ে তুলেছেন সম্পদের পাহাড়। অথচ মোমিন এক সময় গরুর গাড়ি চালাতেন। তারপর ট্রাকের হেলপারি করতেন। পরে বাসের ড্রাইভার হন। মাহী পরিবহন নামে একটি গাড়ি চালাতেন। এখন তার নিজেরই কয়েকটি ট্রাক ও বাস আছে। রয়েছে ইটভাটা, পুকুর ও বাগানবাড়িসহ আরও অনেক সম্পদ।

সংবাদটি শেয়ার করুন-
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •