স্টাফ রিপোর্টার,উত্তরবঙ্গ প্রতিদিন ::
রাজশাহী মহানগরী মধ্যে অবস্থিত তালাইমারী বালুঘাট অবৈধ বালুমহাল বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। আজ বুধবার দুপুরে রাজশাহী জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বালুঘাটটিতে খুটি পুতে সাইনবোর্ড লাগোনো হয়েছে। পদ্মা নদী থেকে বালু উত্তোলন বন্ধে অভিযান চলছে বলে নিশ্চিত করেছে রাজশাহী জেলা প্রশাসন। এছাড়া ওই ঘাটে অবৈধ বালু কারবারিদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করে ৮জনকে আটক করা হয় এবং তাদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান হয়। এ সময় ভেকু মেমিন ও স্যালো মেশিনের ৪টি ব্যাটারী জব্দ করা হয়।

জানতে চাইলে,সহকারী কমিশনার (ভূমি) পি.এম ইমরুল কায়েস বলেন, মহামন্য হাইকোর্ট বিভাগের রিট পিশিটন নং-৬৫২১/২০১৯ এর আদেশ মোতাবেক কাজলা মৌজা, কাজলা বালু ঘাট ব্যবহার করে সকল ধরনের বালু উত্তোলন,বালু পরিবহন নিষিদ্ধ করা হলো। এ আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

রাজশাহী জেলা প্রশাসেনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরাফাত আমান আজিজ জানান, বালু মহল ও ভূমি ২০১০/১১ ধারা লংঘন আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আটককৃদের অবৈধ বালু উত্তোলন ও আইন লঙ্ঘন করার অপরাধে ৮ জনের মধ্যে ২ জনকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম করাদন্ড ও ৬ জনকে ১মাস করে বিনাশ্রম করাদন্ড প্রদান করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, বালু ঘাটের পুরো বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।

প্রসঙ্গত, নগরীর বুলনপুর এলাকার আব্দুল কাদেরের ছেলে আনোয়ার হোসেনের রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি এফ.আর.এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের বেঞ্চ শুনানি শেষে রাজশাহীর জেলা প্রশাসককে ফের এ আদেশ দেন।

দুইতরফা শুনানি শেষে গত ১৩ মে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ রাজশাহীর জেলা প্রশাসনকে তালাইমারী বালুঘাট বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেন। জেলা প্রশাসন গত ৩ জুন ইজারাবহির্ভূত এলাকা তালাইমারী এলাকা থেকে বালু উত্তোলন বন্ধসহ বালুঘাটটি বন্ধের জন্য আওয়ামী লীগ নেতা মোঃ আজিজুল আলম বেন্টুকে একটি চিঠি দেন। আনোয়ার হোসেনের আরও অভিযোগ, জেলা প্রশাসনের চিঠি পাওয়ার পরও আজ অবধি তালাইমারী বালুঘাটটি বন্ধ করা হয়নি। ফলে তিনি আবারও হাইকোর্টে পৃথক রিট দাখিল করেন। সর্বশেষ উচ্চ আদালত তালাইমারীসহ পদ্মার সকল অবৈধ বালুঘাট বন্ধের আদেশ দিয়েছেন।

আনোয়ার হোসেনের আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব জানান, আদালত তালাইমারীসহ পদ্মার সকল অবৈধ বালুঘাট বন্ধের পাশাপাশি আদালতের আদেশ অনুযায়ী বন্ধ করা হয়েছে মর্মে হলফনামা দাখিল করতেও আদেশ দিয়েছেন জেলা প্রশাসককে। জেলা প্রশাসন এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নিলে তারা আদালত অবমাননার রুল চাইবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

সংবাদটি শেয়ার করুন-
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •