নিজস্ব প্রতিবেদক,উত্তরবঙ্গ প্রতিদিন::
ঈদ-উল আজহাকে সামনে রেখে রাজশাহীতে জমতে শুরু করেছে পশুর হাট। তবে বেচাকেনা সেভাবে জমে নি। খামারি ও কৃষকরা বিভিন্ন পশুর হাটে যাচ্ছেন কোরবানির গরু-ছাগল নিয়ে। ভারতীয় গরু নিয়েও হাটে যাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। এবার রাজশাহীর পশুর হাটে ভারতীয় গরুর আমদানি এখনো কম। তবে ভারতীয় মহিষের আমদানি মোটামুটি। পশুর হাটগুলো জমিয়ে তুলতে ইজারাদাররা প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে।

গত বুধবার সিটিহাটে দেখা যায়—গরু, মহিষ ও ছাগলের নিয়ে বসে আছেন ব্যবসায়ীরা। এবার কোরবানিতে প্রাধান্য পাবে স্থানীয় খামারে পালিত দেশি জাতের গরু-ছাগল। সে দিকে খেয়াল রেখেই হাটে পশু নিয়ে এসেছেন ব্যবসায়ীরা। হাটে পশু আসতে শুরু করলেও এখন পর্যন্ত ক্রেতারা দল বেঁধে আসেনি। তবে যারা কিনতে আসছেন তারা শুরুতে দাম একটু বেশি বলে জানিয়েছেন। ঐদিন সিটিহাটে নওগাঁ থেকে গরু নিয়ে আসা মছিদুল ইসলাম ৩৫টি গরু নিয়ে আসেন। প্রতিটির দাম হাঁকেন ৩৫ হাজার থেকে শুরু করে ৮৫ হাজার পর্যন্ত।

রাজশাহীর সবচেয়ে বড়ো সিটিহাটের গরু ব্যবসায়ীরা বলেন, মাংসের বাজার হিসাবে কোরবানির গরুর দাম এখনো কমই রয়েছে। তারা বলেন, ছোট আকৃতির গরু এখন ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকায় মিলছে, মাঝারি আকৃতির গরুর দাম ৬০ থেকে ৮০ হাজার টাকার মধ্যে এবং বড়ো গরু ৯০ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে।

সিটিহাটের ইজারাদার আতিকুর রহমান কালু বলেন, কয়েক মাস হলো—ভারত থেকে গরু আসছে কম। বর্তমানে ঈদ উপলক্ষ্যে রাজশাহীসহ আশপাশের জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন খামার থেকে কোরবানির গরু আসতে শুরু করেছে। তবে এখনো দাঁতালো (কোরবানির উপযোগী) গরুর সংখ্যা কম। ফলে বেচাকেনা শুরু হলেও জমে ওঠেনি। বেশিরভাগ ক্রেতা হাটে এসে দরদাম হাঁকিয়ে কোরবানির বাজার বোঝার চেষ্টা করছেন। যাদের বাসায় গরু রাখার জায়গা আছে, কেবল তারাই এখন দামে সুবিধা হলে গরু কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।

রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. অন্তিম কুমার সরকার জানান, জেলার ৯ উপজেলায় ১৭ হাজার ৭০০ খামার রয়েছে। যেখানে ৩ লাখ ৬৭ হাজার ৫৭৪ কোরবানির পশু লালন-পালন করা হচ্ছে। এর মধ্যে গরু ৭৮ হাজার ১৩, মহিষ ২ হাজার ১৭৫, ছাগল ২ লাখ ৭৪ হাজার ৭৫ ও ভেড়া ১৩ হাজার ৬৭৫। রাজশাহীতে এবার কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে প্রায় ৩ লাখ ৮২৪টি। এরমধ্যে গরু ৫৮ হাজার ৬১৩টি, ছাগল ২ লাখ ২৭ হাজার ৬৮০টি, ভেড়া ১২ হাজার ৫০০ ও মহিষ ২ হাজার। এখানে পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে ৬৬ হাজার ৭৫০টি। ফলে এখানে কোরবানির জন্য বাইরের পশুর প্রয়োজন হবে না। গতবছর এখানে ৩ লাখের কিছু কম পশু কোরবানি হয়েছে। এবারও এখানে স্থানীয় খামারের পশু দিয়েই তা করা যাবে বলে জানান তিনি।

সংবাদটি শেয়ার করুন-
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •