বিশেষ বিজ্ঞপ্তি :
সুপ্রিয় সন্মানিত পাঠক, আপনি কি উত্তরবঙ্গ প্রতিদিনের নিয়মিত পাঠক? আপনি কি এই পত্রিকায় লিখতে চান? কেন নয় ? সমসাময়িক যেকোনো বিষয়ে আপনিও ব্যক্ত করতে পারেন নিজের চিন্তা, অভিমত, পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ। স্বচ্ছ ও শুদ্ধ বাংলায় যেকোনো একটি সুনির্দিষ্ট বিষয়ে  লিখে পাঠিয়ে দিতে পারেন ইমেইলে কিংবা ফোন করেও জানাতে পারেন আপনাদের।  আমাদের যে কোন সংবাদ জানানোর ৩টি মাধ্যম।🟥১। মোবাইল: ০১৭৭৭৬০৬০৭৪ / ০১৭১৫৩০০২৬৫ 🟥২। ইমেইল: upn.editor@gmail.com🟥৩। ফেসবুক : facebook.com/Uttorbongoprotidin  
আজ ৫ মে ২০২১ বুধবার ১:৫৩ পূর্বাহ্ন রাজশাহী,বাংলাদেশ ।। ইংরেজীতে পড়ুন উত্তরবঙ্গ প্রতিদিন Bengali Bengali English English

ফাহমিদা,উত্তরবঙ্গ প্রতিদিন :: হঠাৎ জ্বর। গায়ে প্রচণ্ড ব্যথা। রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি রিয়াজ সর্দার । তিন দিন পর কিছুটা সুস্থ হলে বাসায় ফেরেন। সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসায় অবহেলার নানা খবর শুনে সেখানে চিকিৎসা নিয়ে তার মনে কিছুটা সংশয় ছিল। অর্থকরির টানাটানির কারণে বেসরকারি হাসপাতালে যাননি। কিন্তু এই তিন দিনে সরকারি হাসপাতালের প্রতি তার আস্থা ফিরেছে অনেকটাই।

রিয়াজের মতো আরও অনেক ডেঙ্গু রোগী এই হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে আলাদা ডেঙ্গু ওয়ার্ড খোলা হয়েছে। ২৫ নম্বর চক্ষু ওয়ার্ডের পুরুষদের জন্য বরাদ্দ ছানি রোগীদের ইউনিটকে নিয়ে এই ডেঙ্গু ওয়ার্ড খোলা হয়েছে।

রামেক হাসপাতালের ডা. সাইফুল ইসলাম ফেরদৌস উত্তরবঙ্গ প্রতিদিনকে বলেন, ‘ডেঙ্গু বেড়ে গেছে। এটা নিয়ন্ত্রণ রাখা আমাদের কাজ। আমরা সেটার চেষ্টা করে যাচ্ছি। নিজেদের বিশ্রামের কথা ভাবার সময় নেই এখন। একজন রোগীর জীবন বাঁচানো মানে চিকিৎসক হিসেবে জীবনের সফলতা।’

আর এবার ডেঙ্গুর ধরন এমন যে, চিকিৎসায় দেরি করলে বিপদ হতে পারে জীবনের। ফলে জ্বর হলেই মানুষ ছুটছে হাসপাতালে হাসপাতালে। শয্যা পাওয়াই কঠিন হয়ে যাচ্ছে। বেসরকারি হাসপাতলে শয্যা ফাঁকা না থাকলে রোগীকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু সরকারি হাসপাতালে সে রীতি নেই। ফলে রোগীর চাপ বেশির পাশাপাশি চিকিৎসকদের দায়িত্বও বেশি সেখানে।

আর রোগীর শারীরিক অবস্থা অফিস সময় মেনে চলে না। খারাপ হতে পারে যেকোনো সময়। তাই তার দিকে নজরও রাখতে হয় সার্বক্ষণিক।

রোগীর চাপ বেশি থাকায় সমস্যা হচ্ছে কি না জানতে চাইলে এই চিকিৎসক বলেন, ‘চিকিৎসকরা সেবা দেবেন, এমন মনোভাব নিয়ে তাদের তৈরি করা হয়। বছরের সব সময় হয়তো স্বাভাবিক রোগীর চাপ থাকে, এখনকার মতো চাপ থাকে না। যখন চাপ থাকে তখন চিকিৎসকরা বেশি সময় কাজ করেন। এটা আমাদের পেশায় স্বাভাবিক ঘটনা। আমরা সেভাবেই দেখি।’

রোগীর চাপে সবচেয়ে বেশি খাটতে হয় শিক্ষানবিশ চিকিৎসকদের। আর পড়াশোনা শেষ করে কর্মজীবনে ঢুকতে গেলে শুরুতেই এই চাপটা এক ধরনের শিক্ষা বলে মনে করেন মেডিসিন বিভাগে কাজ করা ইন্টার্ন (শিক্ষানবিশ) চিকিৎসক আরমান হোসেন। তিনি বলেন, রোগী আসছেই। তাদের অনেকেই অসহায় মানুষ। তাদের জীবন বাঁচানোর চেষ্টা ছাড়া এই মুহূর্তে আর কিছু ভাবার সময় নেই। চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা সুস্থ হলে শরীরে ক্লান্তি থাকে না। আমি না আমার প্রত্যেক সহকর্মীই চেষ্টা করছে এই দুর্যোগ যেন কাটিয়ে ওঠা যায়। সবার সহযোগিতায় খুব শিগগির আমরা এই বিপদ কাটিয়ে উঠব।’

‘আমরা কেবল তাদের চিকিৎসাই দিচ্ছি না। জানতে পারছি, তাদের অনেকেই ডেঙ্গু সম্পর্কে জানে না। আমার চিকিৎসার পাশাপাশি তাদের কাউন্সেলিং করছি, যেন বাসাবাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখে।’

ওয়ার্ডকর্মী আসলাম বলেন, রোগীর চাপে আর সেবায় খাওয়া-দাওয়ার সময়ও ঠিক থাকছে না।

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ১৩ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিতে এসেছে। এ নিয়ে হাসপাতালটিতে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর সংখ্যা ১২৪ জনে দাঁড়াল। গতকাল শনিবার হাসপাতালের উপপরিচালক সাইফুল ইসলাম জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ১৩ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ৬৩ জন। তবে তাদের অবস্থা শঙ্কামুক্ত। আর ৬১ জন চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন-
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  


আজ ৪ আগস্ট ২০১৯ রবিবার ২:৫০ অপরাহ্ন রাজশাহী,বাংলাদেশ ।। ইংরেজীতে পড়ুন উত্তরবঙ্গ প্রতিদিন Bengali Bengali English English
© All rights reserved © 2016-2021 24x7upnews.com - Uttorbongo Protidin