স্টাফ রিপোর্টার,উত্তরবঙ্গ প্রতিদিন ::  শুদ্ধি অভিযানের পরিণতি কতদূর পর্যন্ত যাবে, কতজন গ্রেপ্তার হবে, সর্বোচ্চ কোন পর্যায়ে গ্রেপ্তার হবে কিংবা কতদিন চলবে? শুদ্ধি অভিযানে কি শুধু আওয়ামী লীগের লোকজন ধরা হবে? অন্যান্য যারা বিভিন্ন অপকর্মের সঙ্গে জড়িত তাদের কি আইনের আওতায় আনা হবে না? শুদ্ধি অভিযানে যে বলা হচ্ছে নেপথ্যে রাঘব বোয়াল, গডফাদার বা যারা অভিযুক্তদের মদদ দিয়েছে তাদেরকেও আইনের আওতায় আনা হবে, সেটা কি আনা হবে?

শুদ্ধি অভিযানের পরিণতি নিয়ে নানা প্রশ্ন জনমনে উঠছে। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারাও এই শুদ্ধি অভিযানের ধরণ, বরণ প্রকৃতি সম্বন্ধে অন্ধকারে রয়েছেন। তারা জানেন না যে, কারা কারা এই শুদ্ধি অভিযানের টার্গেট, কাদেরকে ধরা হবে, এই শুদ্ধি অভিযানের গতিপথ কোনদিকে যাবে তার কিছুই জানেন না আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতারা। যদিও নেতারা আওয়ামী লীগের এই শুদ্ধি অভিযান নিয়ে নানা রকম কথা বলছেন। ওই সমস্ত নেতারাও একান্ত আলাপচারিতায় স্বীকার করছেন যে, এই শুদ্ধি অভিযানের বিস্তারিত কোন কিছু জানেন না। তারা অতটুকুই জানেন, যতটুকু আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ১৪ সেপ্টেম্বর কার্যনির্বাহী সভায় বলেছেন।

আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সভায় শেখ হাসিনা বলেছেন, যারা অপরাধি তাদেরকে ছাড় দেওয়া হবে না। বিশেষ করে যুবলীগে কিছু মনস্টার তৈরী হয়েছে বলে তিনি জানান।

বাংলা ইনসাইডারের অনুসন্ধানে জানা গেছে যে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়া মাত্র ৪জন ব্যাক্তি এই অভিযানের গতি প্রকৃতি, ভবিষ্যত এবং মাস্টারপ্ল্যান জানেন। এদের মধ্যে রয়েছেন আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার অন্যতম প্রধান কর্মকর্তা এবং গোয়েন্দা সংস্থার উর্ধতন ৩জন ব্যক্তি। এছাড়া এই অভিযানের পুরো চিত্র কারো কাছে নেই।

যারা অভিযুক্ত হতে পারেন বা যাদের মধ্যে ভয় কাজ করছে তারা যখন দলের কেন্দ্রীয় বা সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন, তখন দলের কেন্দ্রীয় বা সিনিয়র নেতারা একই কথা বলছেন তারা জানেন না যে কারা অভিযুক্ত বা কে অভিযুক্ত। এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, এই অভিযানের লক্ষ্য একটাই, সেটা হলো অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা। আমরা দল থেকে শুরু করেছি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছে, আওয়ামী লীগের বাইরেও অপরাধের সঙ্গে জড়িত অনেক ব্যক্তি আছেন। তাদের ব্যাপারে শুদ্ধি অভিযানে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে কিনা সেই সম্বন্ধে স্পষ্ট ধারণা নেই আওয়ামী লীগ নেতা বা অন্য কারোর। তবে সাধারণ মানুষ এই শুদ্ধি অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন। সাধারণ মানুষ মনে করছেন, এই অভিযানের ফলে অন্তত কিছুদিন সবকিছু ঠিক থাকবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন-
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •