রাজশাহীতে মোটর শ্রমিদের নির্বাচনে সংঘর্ষ, আহত ৭:উত্তরবঙ্গ প্রতিদিন

স্টাফ রিপোর্টার,উত্তরবঙ্গ প্রতিদিন :: রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনে শ্রমিকদের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শুক্রবার সকাল ৮টায় রাজশাহীর মাদ্রাসা ময়দান সংলগ্ন নাইস কমিউনিটি সেন্টারে মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের ত্রি-বার্ষিক নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়। বিকাল ৪টার দিকে ভোটকেন্দ্রে সামনের সড়কে সাধারণ সম্পাদক পদের দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। পরে পুলিশ লাঠিপেটা করে তাদের সরিয়ে দেয়। এই সংঘর্ষ এবং লাঠিপেটায় সাতজন আহত হন।

রামেক হাসপাতাল পুলিশ বক্স সূত্রে জানা গেছে, সংঘর্ষের পর সাতজনই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তবে তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক নয়। হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভর্তি হয়ে তারা চিকিৎসা নিচ্ছেন।

সংঘর্ষের পর ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, ভোটকেন্দ্রের চারপাশে বিপুলসংখ্যক পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ এবং র‌্যাব সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। ভোটগ্রহণের সময় বিকাল ৫টা পর্যন্ত হলেও যারা ভোটকেন্দ্রের ভেতরে ঢুকে গেছেন তাদের ভোট নির্ধারিত সময় পরেও গ্রহণ করা হচ্ছিল। তবে নতুন করে আর কোনো শ্রমিককে ভেতরে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। কেন্দ্রের বাইরে প্রার্থীরা অবস্থান করছেন।

নির্বাচনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ মোট ২১টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ১১১ জন। এর মধ্যে সভাপতি পদের চার প্রার্থী হলেন, কামাল হোসেন রবি, জাহাঙ্গীর আলম, রজব আলী ও রফিকুল ইসলাম রফিক। আর সাধারণ সম্পাদক পদের তিন প্রার্থী হলেন, মমিনুল ইসলাম মমিন, মাহাতাব হোসেন চৌধুরী ও সাইরুল ইসলাম।

নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন অ্যাডভোকেট রবিউল হক কাকর। অন্য দুই নির্বাচন কমিশনার হলেন অ্যাডভোকেট আসলাম সরকার ও সিরাজী শওকত সালেহীন এলেন। এই নির্বাচনের মোট ভোটার সংখ্যা তিন হাজার ৪২০ জন।

এর আগে জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের কমিটির মেয়াদ শেষ হলে ২০১৭ সালের ২৪ মে নির্বাচনের আয়োজন করা হয়। সেদিন ভোট গণনা শেষ হলেই ভোটকেন্দ্রে হামলা চালানো হয়। এ সময় গোলাগুলির ঘটনাও ঘটে। ব্যালট বাক্স ছিনতাই করা হয়। মাথা ফাটিয়ে দেয়া হয় নির্বাচন কমিশনারদেরও। এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করা হয়।

এরপর ২১ সদস্যের একটি আহ্বায়ক কমিটি দিয়ে চলছিল মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন। অবশেষে গত ২২ জুন রাজশাহী এসে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শাজাহান খান ওই কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেন। তিনি নির্বাচন আয়োজনের জন্য রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনকে দায়িত্ব দিয়ে যান। গঠন করা হয় নতুন একটি আহ্বায়ক কমিটিও। তিন মাসের মাথায় সেই কমিটি নির্বাচনের ব্যবস্থা করলো।

সংবাদটি শেয়ার করুন-
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আপনার গুরুত্বপূর্ন মতামত দিন