বিশেষ বিজ্ঞপ্তি :
সুপ্রিয় সন্মানিত পাঠক, আপনি কি উত্তরবঙ্গ প্রতিদিনের নিয়মিত পাঠক? আপনি কি এই পত্রিকায় লিখতে চান? কেন নয় ? সমসাময়িক যেকোনো বিষয়ে আপনিও ব্যক্ত করতে পারেন নিজের চিন্তা, অভিমত, পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ। স্বচ্ছ ও শুদ্ধ বাংলায় যেকোনো একটি সুনির্দিষ্ট বিষয়ে  লিখে পাঠিয়ে দিতে পারেন ইমেইলে কিংবা ফোন করেও জানাতে পারেন আপনাদের।  আমাদের যে কোন সংবাদ জানানোর ৩টি মাধ্যম।🟥১। মোবাইল: ০১৭৭৭৬০৬০৭৪ / ০১৭১৫৩০০২৬৫ 🟥২। ইমেইল: upn.editor@gmail.com🟥৩। ফেসবুক : facebook.com/Uttorbongoprotidin  
আজ ১০ মে ২০২১ সোমবার ১১:২৬ অপরাহ্ন রাজশাহী,বাংলাদেশ ।। ইংরেজীতে পড়ুন উত্তরবঙ্গ প্রতিদিন Bengali Bengali English English

স্টাফ রিপোর্টার,উত্তরবঙ্গ প্রতিদিন:: জনবলের অভাবে জোড়াতালি দিয়ে চলছে রাজশাহী জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কার্যক্রম। দুটি টিমে ভাগ হয়ে ৫ জন করে মাত্র ১০ জন কর্মকর্তা দিয়ে চলছে অভিযান। আর ১৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী দিয়ে চলছে পুরো দপ্তরটি। আইন প্রয়োগকারী অন্য সংস্থাগুলো যখন প্রযুক্তির দিক দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের অভিযান চলছে ম্যানুয়াল কায়দায়।

জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, রাজশাহী জেলা কার্যালয়ে অনুমোদিত জনবল রয়েছে ১৮ জন। উপ-পরিচালক, সহকারী পরিচালক, প্রসিকিউটর, তত্ত¡াবধায়ক, পরিদর্শক, সহকারী প্রসিকিউটর, হিসাবরক্ষক, উপ-পরিদর্শক, সহকারী উপ-পরিদর্শক, কম্পিউটার অপারেটর, সাঁটমুদ্রাক্ষরিক, অফিস সহকারী, চালক, সিপাই ও অফিস সহায়ক। তবে, নতুন নীতিমালা অনুযায়ী ৩৬ টি পদের ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে। বর্তমানে জেলা কার্যালয়ে ১ জন উপ পরিচালক, ১ জন সহকারী উপ পরিচালক, ১ জন প্রসিকিউটর ও ২ জন সিপাহী মিলে অভিযান চালায়। ১৮ জন কর্মকর্তার মধ্যে ১০ জন অভিযানে অংশগ্রহন করে বাকি ৮ জন অফিসের বিভিন্ন কাজ করেন। এই ১০ জনের মধ্যে দুটি টিমে ভাগ হয়ে ৫ জন রাজশাহী জেলা কার্যালয়ে এবং অপর ৫ জন নগরীর বানেশ^র অফিসে কাজ করেন।

এ বিষয়ে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক লুৎফর রহমান বলেন, রাজশাহী জেলা সীমান্তবর্তী এলাকা। এসব এলাকায় মাদকের প্রবনতা অনেক বেশি। যেখানে ব্যপক জনবলের দরকার হলেও দুটি টিমে ভাগ হয়ে কাজ করছি মাত্র ১০ জন। জনবল সংকটের মধ্যেও আমরা আমাদের সর্বোচ্চ দিয়ে মাদক নির্মূলে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে জনবল সংকট। এছাড়া আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের অনুমুতি না থাকায় খালি হাতে অভিযানে যেতে হয়। অনেক সময় থানা থেকে পুলিশ ফোর্স আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। কিন্তু অস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি না থাকায় মাদকদ্রব্য উদ্ধার ও আসামিদের ধরতে অভিযান পরিচালনাকারীদের নানামুখী অসুবিধায় পড়তে হয়। অনেক ক্ষেত্রে মাদক ব্যবসায়ীদের দ্বারা হামলার শিকারের আশঙ্কা থাকে। তাই অনেক সময় তথ্য থাকার পরও আগে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাতে হয়। তবে অভিযান পরিচালনার তাগিদে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স চাওয়া হয়েছে। এছাড়া অভিযানে অংশগ্রহনকারী সিপাহী ও ইন্সপেক্টরদের নির্ধারিত পোশাক (ইউনিফর্ম) রয়েছে। তবে বাকি কর্মকর্তাদের কোন পোশাক নেই। সেটার জন্য আবেদন করা হয়েছে এবং তা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, মাদকের বিস্তাররোধে জেলার সকল স্কুল-কলেজেই মাদকবিরোধী কমিটি গঠন করা আছে। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাদকবিরোধী আলোচনা সভাসহ বিভিন্ন সচেততনামূলক কর্মসূচী বাস্তবায়ন করা হয়। ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে মাদকবিরোধী শপথ পাঠ ও লিফলেট বিতরণ করা হয়। এছাড়াও বিভিন্ন ক্লাব, এনজিও কর্মকর্তাদের সঙ্গে মাদকবিরোধী আলোচনা সভা করা হয়। এছাড়া কারাগারে কারাবন্দিদের উদ্দেশ্যে মাদকের ক্ষতিকারক দিক তুলে ধরে প্রতি ২-৩ মাস পরপর কর্মসূচী গ্রহন করা হয়। মাদক নিয়ন্ত্রণে অস্ত্র ও জনবলসহ অন্যান্য সুবিধা পাওয়া গেলে মাদকের বিস্তার রোধে আরো বেশি কাজ করা যাবে বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে রাজশাহী বিভাগীয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক জাফরুল্ল্যাহ কাজল বলেন, বিভিন্ন সমস্যার মধ্যে থেকেও মাদক নিয়ন্ত্রণে অধিদপ্তরের কার্যক্রম আগের চেয়ে অনেক উন্নতি হয়েছে। জনবল সংকট, আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের অনুমুতি না থাকাসহ গুরুত্বপূর্ণ যে বাধা গুলো রয়েছে সেটা নতুন নীতিমালা বাস্তবায়ন হলে অনেকটা সমাধান হবে। ফলে কাজের গতিশীলতা বৃদ্ধি পাবে। তিনি আরো বলেন, বিভাগীয় কার্যালয়ে সরকারী ৯টি পদের বিপরীতে বর্তমানে ৫ জন কর্মরত আছি। নতুন নীতিমালায় লোকবল বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে।

এদিকে, জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে জুলাই পর্যন্ত জেলা কার্যালয় মোট ৫০৩ টি অভিযান পরিচালনা করেছে। তাতে সর্বমোট ২৫৮ টি মামলার মধ্যে নিয়মিত মামলার সংখ্যা ৯৯ টি ও মোবাইল কোর্ট মামলা ১৫৯ টি। গ্রেফতারকৃত আসামীর সংখ্যা ২৫৪ জন। পালাতক আসামীর সংখ্যা ১৮ জন। এসব অভিযানে ৯৯২ দশমিক ২৫ গ্রাম হেরোইন, ১ হাজার ২৯৪ বোতল ফেন্সিডিল, ১১ হাজার ৩১৩ পিস ইয়াবা, ১৪ কেজি গাঁজা, ৩০ লিটার চোলাই মদ, ৭০০ লিটার ওয়াশ, তরল ফেন্সিডিল ২০০ মিঃ গ্রাঃ, ৬ টি মোবাইল, ১ টি ইজিবাইক ও ১ টি ভ্যান জব্দ করা হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন-
  • 986
  • 238
  • 147
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    1.4K
    Shares


আজ ২৪ অক্টোবর ২০১৯ বৃহস্পতিবার ৪:১০ অপরাহ্ন রাজশাহী,বাংলাদেশ ।। ইংরেজীতে পড়ুন উত্তরবঙ্গ প্রতিদিন Bengali Bengali English English
© All rights reserved © 2016-2021 24x7upnews.com - Uttorbongo Protidin