রমজান আলী,উত্তরবঙ্গ প্রতিদিন :: পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে মুষ্টিমেয় পুলিশের দুর্নীতিবাজ দুষ্টচক্রের কেলেঙ্কারি। দুর্নীতিবাজ, ঘুষখোর, মাদকসেবী, অনৈতিক কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িত এসব পুলিশ সদস্যের তালিকাও তৈরি করা হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে শুরু করা হয়েছে নজরদারি। পুলিশ বাহিনীর ইমেজ নষ্টের জন্য যেসব পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে তদন্তসহ কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ সদর দফতর।

এরই ধারাবাহিকতায় একজন সাব ইন্সপেক্টর প্রায় ৪ কোটি টাকা ব্যায়ে কাশিয়াডাঙা এলাকায় বাড়ি নির্মান করেছেন।সেই বাড়ীতে আছে এসি,ফ্রিজ, এলইডি টিভি সহ আরোও লক্ষাধিক টাকার সামগ্রী। আবার তার বাড়ীর সামনেও লেখা আছে সাব ইন্সপেক্টর অব সিআইডি। অথচ তিনি বর্তমানে কর্মরত আছেন রাজশাহী দামকুড়া থানায়।অবশ্য সংবাদ প্রকাশের কথা শুনেই অবশ্য নামিয়ে নিয়েছেন সেই সাইনবোর্ড।

স্থানীয় এলাকাবাসী সহ বিভিন্নসূত্রে আরোও জানা যায় সেই ডাক বাংলো বাড়ীতে তার পরিবারের কোন সদস্যই থাকেননা।তাহলে কে থাকেন সেই বাংলোয়? তার বাচ্চাদের পেছনেও তার মাসিক ব্যয় আরোও লক্ষাধিক টাকা। এলাকার সবাই বলে এটা নাকি তার ডাক বাংলো। এই অফিসারের নাম আজিজ। আছেন দামকুড়া থানায়। তিনি সাব-ইন্সপেক্টর।তাহলে এই টাকার রহস্য কি ?

জানা যায় মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে তিনি কোটি কোটি টাকার গাড়ি, বাড়ি ও সম্পত্তির মালিক। তার কর্মকাণ্ডে থানার একাধিক কর্মকর্তা কর্মচারী বিপাকে থাকলেও নাম-পরিচয় প্রকাশ করে বক্তব্য দিতে রাজি হননি, কারণ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার দোহাই দিয়ে তিনি নির্বিঘ্নে অপকর্ম চালিয়ে আসছেন।সেই সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন আন্ডারওয়ার্ল্ড এর গডফাদারদের সাথে।
রাজশাহী কাশিয়াডাঙা এলাকাবাসীর মতে রাত গভীর হলেই এইখানে আনাগোনা হয় পরিচিত অপরিচিত সহ বিভিন্ন মুখ।কখনো কখনো মাদক ব্যবসায়ী, নারী দেহ ব্যবসার কারবারী সহ অপরাধ জগতের বিভিন্ন ব্যাক্তি। এমন কোন মাদক ব্যবসায়ী নাই যে সে তার কাছ থেকে টাকা উত্তোলন করেননা।

এলাকায় তিনি সিআইডি অফিসার হিসেবে আতংক। মাদকও সেবন করেন ঐ তার ঐ ডাক বাংলোয়।আর কথায় কথায় বলেন- থানার চাকরী করবোনা সিআইডিতে চলে যাব।ইচ্ছামত চাকরী করতে পারি ওখানে।আবার বলেন – আমার বাপ- দাদার দোহাই দিলেই সম্পত্তির সব হিসাব মাফ হয়ে যায়।

রাজশাহীর পশ্চিমাঞ্চলে অর্থাৎ রাজপাড়া,কাশিয়াডাংগা,দামকুড়া অঞ্চলে এ রকম শত শত অভিযোগ রয়েছে এসআই আজিজের বিরুদ্ধে। বাংলাদেশ দুর্নীতি কমিশন যখন দুর্নীতি নির্মূলে সারা দেশে কঠোর অভিযান পরিচালনা করছে, অথচ তখন আজিজের মত পুলিশ সদস্যরা সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলছে ।

শুধু তাই নয় নিজের পার্টনার হিসেবে দামকুড়া থানায় পোস্টিং করিয়ে নিয়ে এসেছেন ৮ থেকে ৯ বার পানিশমেন্ট পাওয়া আরেক এএসআইকে।অবশ্য সিআইডিতে ঐ এএসআই কন্সটেবল হিসেবে দীর্ঘদিন এই অঞ্চল গুলোতেই কাজ করেছেন।দুর্নামের ভাগীদারও হয়েছেন তিনি। কারন মাদক সেবন, নারী কেলেঙ্কারি সহ এহেন অপকর্ম নাই যা তিনি করেননি।পুলিশ ডিপার্টমেন্ট তার বিষয়েও যথেষ্ট অবগত। এতকিছুর পর এসকল অফিসার কি কারনে রাজশাহী মেট্রো এলাকায় সেটাই এখন প্রশ্ন সুশীল সমাজের।

ঐ এএসআই আবার নারায়নগঞ্জের সদ্য ক্লোজ হওয়া এক দূর্নীতিবাজ ওসির নাকি ছোট ভাইও দাবী করেন নিজেকে। আর তাই মাঝে মধ্যেই
অহংকারের সাথে বলে থাকেন – নিউজ হলে কি হবে কিছু টাকা খরচ করে অন্য জায়গায় পোস্টিং নেব।আমার ভাই তো ১০০ কোটি টাকা ইনকাম করেও কেউ কিছুই করতে পারেনি তার।
আমার আবার কি হবে…?

তবে স্থানীয় এলাকাবাসীসহ সমাজ বিশেষজ্ঞদের মতে- এখুনি যদি এই সকল করাপ্টেড পুলিশ অফিসারদের বিরুদ্ধে যদি কোন পদক্ষেপ না নেয়া যায়,তবে বাংলার প্রতিটি থানায় এইরকম একটি করে দুর্নীতিবাজ এসআই আজিজের জন্ম হবে আর সেই সাথে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা এবং প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ঘোষিত দূর্নীতি বিরোধী অভিযান কখনই সফলতার মুখ দেখবেনা।

 

১৫ নভেম্বর, ২০১৯ বাংলাদেশ সময়  ১০:৩৫পিএম

সংবাদটি শেয়ার করুন-
  • 23.7K
  • 2.9K
  • 1.7K
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    28.2K
    Shares