বিশেষ বিজ্ঞপ্তি :
সুপ্রিয় সন্মানিত পাঠক, আপনি কি উত্তরবঙ্গ প্রতিদিনের নিয়মিত পাঠক? আপনি কি এই পত্রিকায় লিখতে চান? কেন নয় ? সমসাময়িক যেকোনো বিষয়ে আপনিও ব্যক্ত করতে পারেন নিজের চিন্তা, অভিমত, পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ। স্বচ্ছ ও শুদ্ধ বাংলায় যেকোনো একটি সুনির্দিষ্ট বিষয়ে  লিখে পাঠিয়ে দিতে পারেন ইমেইলে কিংবা ফোন করেও জানাতে পারেন আপনাদের।  আমাদের যে কোন সংবাদ জানানোর ৩টি মাধ্যম।🟥১। মোবাইল: ০১৭৭৭৬০৬০৭৪ / ০১৭১৫৩০০২৬৫ 🟥২। ইমেইল: upn.editor@gmail.com🟥৩। ফেসবুক : facebook.com/Uttorbongoprotidin  
আজ ১১ মে ২০২১ মঙ্গলবার ৫:২৯ অপরাহ্ন রাজশাহী,বাংলাদেশ ।। ইংরেজীতে পড়ুন উত্তরবঙ্গ প্রতিদিন Bengali Bengali English English

স্টাফ রিপোর্টার, উত্তরবঙ্গ প্রতিদিন ::  পুরান ঢাকার ফরাশগঞ্জে বাবার কাঠের ব্যবসায় বসেছেন তরুণ সেলিম এইচ রহমান। বসেছেন বললে ভুল হবে। মূলত তাঁর কাজ ছিল কাঠ মাপজোখ করা। তবে তাতে নতুনত্ব না থাকায় কোনো মজা পাচ্ছিলেন না তিনি। সেটি আবার বাবাকে বলতেও পারছেন না ভয়ে। অবশ্য সারাক্ষণই তাঁর মাথায় ঘুরতে থাকে, নতুন কী করা যায়। নতুন কী করা যায়।

একদিন সুযোগ চলে এল। নিজের বাসার দরজার জন্য কাঠ কিনতে লতা হোসেন নামের একজন ক্রেতা ফরাশগঞ্জে এলেন। সঙ্গে তাঁর কাঠমিস্ত্রি। হঠাৎ করে মাথায় বুদ্ধি খেলে গেল সেলিম এইচ রহমানের, ক্রেতাকে দরজা বানিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিলেন। কাকতালীয়ভাবে সেই ক্রেতা রাজি হয়ে গেলেন। দরজার জন্য অগ্রিম ৫০ হাজার টাকাও দিলেন ক্রেতা।

সেই টাকা দিয়ে বাবার কারখানার ভেতরে মহা উৎসাহে দরজা বানানোর কাজে নেমে পড়লেন সেলিম এইচ রহমান। তখন সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিলেন বাবার ব্যবসার কর্মচারী আহসান হাবিব। দরজা বানাতে গিয়ে তরুণ সেলিম মনস্থির করলেন, প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কাজটি করবেন। তখনো দেশে দরজার কোনো ব্র্যান্ড ছিল না। সময়টা ১৯৮৮ সাল।

বাবার কাছ থেকে বেশ কিছু টাকা ধার করে বাড্ডায় দিলেন দরজা বিক্রির দোকান। নাম হাতিল ডোরস। খোরশেদ আলম নামের এক তরুণকে বিক্রয়কর্মী হিসেবেও নিয়োগ দিলেন। কিন্তু দরজা তো বিক্রি হয় না। দিনের পর দিন বউনি হয় না। দুশ্চিন্তায় পড়ে গেলেন। এভাবে ১৮-১৯ দিন কেটে যাওয়ার পর প্রথম দরজা বিক্রি হলো।

অল্প সময়ের মধ্যেই মিরপুরের কাজীপাড়ায় দ্বিতীয় বিক্রয়কেন্দ্র করে ফেললেন সেলিম এইচ রহমান। চাহিদা বাড়তে থাকায় ১৯৯০ সালে পুরান ঢাকার গেন্ডারিয়ার একটি ময়দার মিল ভাড়া করে দরজা বানানোর কারখানা করলেন। তখন হাতিলের দরজার মান দেখে ক্রেতাদের কেউ কেউ বলতে লাগলেন, আপনারা তো আসবাবও বানাতে পারেন।

পরামর্শটা সেলিম এইচ রহমানের মনে ধরল। শুরু করলেন সেগুন কাঠের খাট ও ডাইনিং টেবিল বানানো। ভালো সাড়া পেতে শুরু করলেন। ১৯৯২ সালে হঠাৎ করেই উত্তরা থেকে দুই ভদ্রলোক এলেন। হাতিলের ডিলারশিপ নেওয়ার প্রস্তাব দিলে রাজি হয়ে গেলেন সেলিম এইচ রহমান। শুরু হলো নতুন যাত্রা। সেই হাতিল বর্তমানে দেশের আসবাব ব্র্যান্ডের পরিচিত একটি নাম। সারা দেশে তাদের বিক্রয়কেন্দ্র ৭০টি।

হাতিলকে কেবল দেশের আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষ ব্র্যান্ড বললে ভুল হবে। আসবাব রপ্তানিতে শীর্ষস্থানে পৌঁছেছে হাতিল। গত কয়েক বছরে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত, নেপাল ও ভুটানে ছড়িয়েছে ব্র্যান্ড হাতিল। দেশের অনেক প্রতিষ্ঠানই পণ্য রপ্তানি করে। তবে তাদের বেশির ভাগই ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী তাদের নামে পণ্য উৎপাদন করে থাকে। সেখানে হাতিল পুরোপুরি ভিন্ন।

সংবাদটি শেয়ার করুন-
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  


আজ ১৪ জানুয়ারী ২০২০ মঙ্গলবার ১০:৩৯ অপরাহ্ন রাজশাহী,বাংলাদেশ ।। ইংরেজীতে পড়ুন উত্তরবঙ্গ প্রতিদিন Bengali Bengali English English
© All rights reserved © 2016-2021 24x7upnews.com - Uttorbongo Protidin