স্টাফ রিপোর্টার, উত্তরবঙ্গ প্রতিদিন :: দেশের অন্যতম মাদক ট্রানজিট রাজশাহী। পাশের দেশ ভারত থেকে সীমান্ত পেরিয়ে প্রতিদিনই ঢুকছে কোটি টাকার মাদক। মাঝে মধ্যে দু’একটি মাদকের চালান আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী আটকালেও থেমে নেই মাদক প্রবাহ। রাজশাহী মহানগরীতে অভিযোগ রয়েছে, কতিপয় সদস্যের মাদক সম্পৃক্ততায় চেষ্টা করেও মাদক নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছে না পুলিশ।সেই সাথে আছে গ্রেফতার বাণিজ্য ও ছিনতাইয়ের মত অভিযোগ । আবার কারোও বিরুদ্ধে আছে মাদক সেবনের মত অভিযোগ ।

আরও অভিযোগ রয়েছে, আরএমপির গুটিকয়েক পুলিশ সদস্যর সরাসরি মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগ। আবার কেউ কেউ মাদক ব্যবসায়ীদের কারবার চালিয়ে যেতে নানাভাবে সহায়তা দেন। কারও কারও বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। এ তালিকায় রয়েছেন পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্য।সেই আলোকে আজ ধারাবাহিক মোট তৃতীয় পর্বের ১ম পর্ব প্রকাশিত হলো ।

রাজশাহীর মতিহার থানার এসআই শাহাবুলের বিরুদ্ধে গৃহবধূকে যৌন হয়রানিসহ মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। র্দীঘদিন যাবত মতিহার থানায় থাকার সুবাদে এলাকাবাসিকে বিভিন্ন ভাবে হয়রানি করে চলেছে এমন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে আরএমপি কমিশনার ও আইজিপি কমপ্লেন সেলে লিখিত অভিযোগ করেছে এলাকাবাসী। শনিবার এ অভিযোগ দেয়া হয়।

ব্যাকগ্রাউন্ড অফ এসআই শাহাবুল – আজ থেকে প্রায় ৬ বছর আগে রাজপাড়া থানায় কর্মরত ছিলেন শাহাবুল।মাদক সংশ্লিস্ট ও গ্রেফতার বানিজ্যের অভিযোগে সেখান থেকে তাকে কয়েকটি শাস্তি নিয়ে ছাড়তে হয় আরএমপি। এরপর দীর্ঘদিন চুপচাপ থাকার পর আবারো চলে আসেন পুর্বের চরিত্রে।এখন প্রশ্ন তাহলে অপরাধ করেও কি তদবীর করে টিকে থাকা যায় আরএমপিতে ?

এস আই শাহাবুলের বিরুদ্ধে বর্তমান যত অভিযোগ : অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মতিহার থানার এসআই শাহাবুল ইসলাম দীর্ঘদিন যাবত এ থানায় থাকার কারণে এলাকার মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে থেকে মাসিক টাকা নিয়ে মাদক ব্যবসা করার সুযোগ দিচ্ছে। বেশ কিছু দিন আগে ডাসমাড়ি শ্যামপুর এলাকার এবাদত, পিতা বিলাত উদ্দিনকে আজিজুলের মোড় থেকে কোন মাদক ছাড়াই আটক করে এসআই শাহাবুল। পরে আটককৃত পরিবারের কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে সে। এবাদতের পরিবার সেই টাকা দিতে অস্বীকার করলে ২৬ গ্রাম হেরোইন দিয়ে মিথ্যা মামলা দেয়। একই দিনে চরশ্যামপুর এলাকার শরিফ, পিতা আকবর আলীকে কোন কিছু ছাড়ায় আটক করে থানায় নিয়ে গিয়ে ২৬ গ্রাম হেরোইনসহ মামলা দেয়।

অপরদিকে, ওই দিনে চরশ্যামপুরের মোবারোক এলকায় না থাকলেও মিথ্যা পলাতক আসামী করে দুইটি মাদক মামলা দায়ের করে তার বিরুদ্ধে। এলাকার মোস্তাকিন নামের এক রিক্সা চালককে রাস্তা থেকে আটক করে থানায় নিয়ে গিয়ে তার পরিবারের কাছে টাকা দাবি করলে দিতে না পারায় তাকে হেরোইনসহ মামলা দেয়। বর্তমানে সে জেল হাজতে আছে। এভাবেই গত ৭ দিন আগে কোরিডোর মোড় এলাকার হাসান নামের একজন কে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে হেরোইন দিয়ে মামলা দেয় এসআই শাহাবুল। এছাড়া মতিহার থানা এলাকার কিছু চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীর কাছে থেকে মাসিক টাকা নিয়ে মাদক ব্যবসা করার সুযোগ করে দিয়ে চরম আইনের অপব্যবহার করছে এসআই শাহাবুল।

এলাকার চিহৃত মাদক ব্যবসায়ী যাদের কাছে থেকে মাসিক চাঁদা নেয় তার মধ্যে রয়েছে, ডাসমাড়ি মিজানের মোড় এলাকার মোছাম্মাদ গুলে বেগম অরোফে গুলে, মোবারক, মিঠু, চম্পা, চম্পার মেয়ে রিমা, রফিকের স্ত্রী শিখা বেগম, আসলাম, আক্কাস, পিচ্চি আক্তার, মিঠু। এসব মাদক ব্যবসায়ীর কাছে থেকে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময় এসআই শাহাবুল এলাকায় তাদের প্রাকাশ্যে মাদক ব্যবসা করার সুযোগ করে দিয়েছে। কিছু দিন আগে ডাসমাড়ি এলাকার চাম্পা বেগমের মেয়ে জামায় আরিফুল কে আটক করে ১০ হাজার টাকা চাম্পার বোন রিমার কাছে থেকে নেয়ার পরেও মাদকসহ মামলা দেয় আরিফুলকে।

তার অত্যাচারে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। তার বিভিন্ন অন্যায় অত্যাচারের বিষয় সুষ্ঠ তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণসহ মতিহার থানা থেকে ক্লোজড করে নেয়ার অনুরোধ জানিয়ে শনিবার বিকেলে আরএমপি পুলিশ কমিশনার, ডিসি, মতিহার জোন এবং রাজশাহীর সকল গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে অভিযোগের কপি দেয়া হয়েছে ।

তবে স্থানীয় গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ মনে করছেন, যদি রাজশাহী রাজপাড়া থানায় থাকাকালীন যদি যথাযথ শাস্তির মুখোমুখি হতেন এসআই শাহাবুল তবে আজ হয়তো জনগণের বন্ধু হতেন কিন্তু তার বিতর্কিত কর্মকান্ডে আজ তিনি সাধারন মানুষের কাছে পুলিশ সদস্য হয়েও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন সাধারন মানুষের মাঝ থেকে। আর সবার মাঝে বিরাজ করছেন মূর্তমান আতংক হিসেবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন-
  • 395
  • 232
  • 23
  • 65
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    715
    Shares