রাজশাহী বাগমারা হাটগাঙ্গোপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জের বিরুদ্ধে অভিযোগ

বাগমারা প্রতিনিধি:  রাজশাহী জেলার বাগমারা উপজেলার হাটগাঙ্গোপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।

গত ১৫ জুলাই বুধবার দুপুর দেড়টার সময় শাহিন ও মোজাহারকে তাদের নিজ বাড়ি থেকে আটক করে হাটগাঙ্গোপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে ইনচার্জ রফিকুল ইসলাম ও তার সঙ্গীয় ফোর্স । এরপর কেন্দ্রে নিয়ে এসে তাদের নিকট মোটা অংকের টাকা দাবী করেন। উক্ত টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় তাদের দুজনকে মাদক ব্যবসায়ীয় সাজিয়ে ৬০ লিটার চোলাইমদ দিয়ে মাদক দ্রব্য আইনে মামলা দায়ের করেন। ওই দিন কোর্টে প্রেরণ করেছেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাকশইল গ্রামের রিয়াজুল ইসলামের ছেলে শাহিন আলমকে গত বুধবার বেলা ২টার সময় নিজ বাড়ী থেকে আটক করে নিয়ে যান। এই সময় শাহিনের কাছে বা তার বাড়ীতে কোন কিছু পাওয়া যায়নী বলে জানিয়েছেন বাকশইল গ্রামের আঃ হামিদ কামাল হোসেন আলী। গোবিন্দপাড়া ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের সদস্য এমাজ উদ্দীনসহ আরো অনেকে বলেন শাহিন একজন গরু ব্যবসায়ী। সরজমিনে গিয়ে জানাযায়, পারদামনাশ গ্রামের তমিজ উদ্দীনের ছেলে মোজাহার আলীকে তার নিজ বাড়ী থেকে বেলা দেড়টার সময় আটক করেন।

এই সময় তাহার কাছে বা তাহার বাড়ীতে কিছু পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন, পার দামনাশ গ্রামের আজাদ আলী, মিলন ফিরোজা বেগম ও গোবিন্দ পাড়া ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবুল হোসেনসহ আরো অনেকেই বলেন মোজাহার একজন মৎস্য ব্যবসায়ী। মজার ব্যাপার হলো মামলার এজাহারভুক্ত সাক্ষী ইনতাজ হোসেন পাখি ও আসাদুজ্জামান লালু জানিয়েছেন, শাহিন ও মোজাহারকে আটক করা হয়েছে তাদের নিজ বাড়ি থেকে তাদের কাছে কোন কিছু পাওয়া যায়নি এবং আমরা দেখিনী ।

হাটগাঙ্গোপাড়া বাজারের কিছু ব্যবসায়ীগন অভিযোগ করে বলেন, হাট গাঙ্গোপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের মহিলা কোয়াটারের জন্য সরকারী ১৫ হাজার ইট ছিলো, সেই ইট বাড়ি গ্রামের রহিদুল ইসলাম এর কাছে বিক্রি করে দিয়েছে এই ইনচার্চ। হাটগাঙ্গোপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উত্তর পাশে গোটা একটা খাসি খেয়ে পুকুর খননের অনুমতি দিয়েছে যা সম্পুর্ন নিয়ম বহির্ভুত। এছাড়াও ক্যাম্পে কোন সাধারণ মানুষ গেলে তিনি খারাপ ব্যাবহার করে থাকেন।

পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে কোন অভিযোগ নিয়ে গেলে দালাল ধরে সেবা পেতে হয়। বাগমারা উপজেলার যুবলীগের সভাপতি আল মামুন জানিয়েছে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও আমাদের এমপি ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছেন। তাই আমি ও আমার প্রাণপ্রিয় গোবিন্দপাড়া ইউনিয়নকে মাদকমুক্ত দেখতে চাই। কিন্তু মাদক নির্মূলে বাগমারা থানার পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

কিন্তু এই বিষয়ে হাটগাঙ্গোপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ রফিকুল ইসলামের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, শাহিন ও মোজাহারকে আমি দামনাশ বাজার থেকে আটক করেছি। তবে মামলার স্বাক্ষী ইনতাজ হোসেন ও আসাদুজ্জামানের সাথে কথা বললে তারা জানান, শাহিন ও মোজাহারকে নিজ বাড়ী থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আমাদের জানামতে তাদের কাছ থেকে কোন প্রকার মাদক দ্রব্য পাওয়া যায়নী।

এছাড়াও এলাকাবাসির সাথে কথা বলে জানা যায় এই আসামীদের বিরুদ্ধে এর আগে কোন ধরনের মামলা ছিলোনা।  বাগমারা থানার ওসি আতাউর রহমান বলেন, শাহিন ও মোজাহার দুজনের বিরুদ্ধে মাদক দ্রব্য আইনে মামলা দেওয়া হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন-
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।