প্রেমিকার কথামত স্ত্রী-ছেলেকে হত্যা করে স্বামী, আদালতে স্বীকারোক্তি

Read Time:4 Minute

স্টাফ রিপোর্টার উত্তরবঙ্গ প্রতিদিন ::

পরকীয়া প্রেমে পারিবারিক কলহের জের ধরে জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় স্ত্রী ও তিন বছরের ছেলে সন্তানকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে ব্যবসায়ী হারুন অর রশিদ। স্ত্রী ও সন্তানকে হত্যার ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে স্বামী হারুন ও তার কথিত প্রেমিকা রোজিনা আক্তারকে গ্রেফতার করে বৃস্পতিবার আদালতে সোর্পদ করেছে পুলিশ। প্রেমিকা রোজিনা আক্তারের প্ররোচনায় স্ত্রী ও সন্তানকে হত্যার কথা আদালতে স্বীকার তরে হারুন। নিহত গৃহবধূ মুসলিমা আক্তার শিখা মাদারগঞ্জ পৌরসভার ঘোনাপাড়া গ্রামের মৃত মোকছেদ শেখের মেয়ে।

মাদারগঞ্জের গুনারিতলা ইউনিয়নের চরগোপালপুর গ্রামের বিএডিসির সাবেক মেকানিক্স মো: ফজলুল হকের ছেলে হারুন অর রশিদ পলাশ বেশ কিছুদিন বিদেশে ছিলেন। বিদেশ থেকে ফিরে এসে মাদারগঞ্জ পৌরসভার বালিজুড়ি বাজারের থানা মোড়ে স-মিল স্থাপন করে কাঠের ব্যবসা শুরু করেন। সম্প্রতি তিনি স-মিলের ব্যবসা বাদ দিয়ে বাড়িতেই মুরগির খামার দিয়েছেন। এক মেয়ে ও দুই ছেলে সন্তানের বাবা হারুন রশিদ পলাশ ওই স-মিলের ব্যবসা করার সময় পার্শ্ববর্তী রোজিনা আক্তার নামের এক নারীর সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন।

এ নিয়ে স্ত্রী মুসলিমার সাথে তার পারিবারিক কলহের সৃষ্টি হয়। সেই কলহের জের ধরে বুধবার ভোররাতে হারুন তার স্ত্রী মুসলিমা(৩৮) ও তিন বছরের ছেলে তাওহিদকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। প্রতিবেশীরা রাতেই এ ঘটনা আঁচ করতে পেরে মাদারগঞ্জ থানায় খবর দেয়। পুলিশ বুধবার সকালে ওই বাড়ি থেকে নিহত মা-ছেলের মরদেহ উদ্ধার করে।

ওইদিন সকালেই জামালপুরের পুলিশ সুপার মো: দেলোয়ার হোসেন ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সীমা রানী সরকার ঘটনাস্থল পরির্দশন করেন।

পরে হত্যার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে হারুন অর রশিদ পলাশ ও তার কথিত প্রেমিকা রোজিনা আক্তারকে (২৬) গ্রেফতার করে পুলিশ। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে একটি ধারালো বটি, রক্তমাখা একটি লুঙ্গি, বিছানার চাদর ও মাছ ধরার জাল আলামত হিসেবে জব্দ করে।

বুধবার নিহত মুসলিমা আক্তারের ছোট ভাই মো: খোকন মিয়া অভিযোগ করেন, মুসলিমার স্বামী হারুন অর রশিদ পলাশের পরকীয়া সম্পর্কের কারণেই এই হত্যাকাণ্ড হয়েছে এবং এই হত্যায় শ্বশুর-শ্বাশুড়িও জড়িত রয়েছে। এদিকে ওইদিন বিকালেই নিহত মুসলিমা আক্তার ও শিশু তওহিদের ময়না তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।

জামালপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সীমা রানী সরকার জানান, পরকীয়ার প্রেমের কারণেই এই হত্যাকাণ্ড হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করে হারুন অর রশিদ পলাম ও তার প্রেমিকা রোজিনা আক্তারকে গ্রেফতার করে বৃহস্পতিবার আদালতে সোর্পদ করা হয়।

আদালতে অভিযুক্ত হারুন অর রশিদ প্রেমিকা রোজিনার প্ররোচনায় নিজের স্ত্রী ও পুত্রকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর শরীরে জখম করার কথা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। দুজনকেই আদালত কারাগারে পাঠিয়েছে।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন-
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।