আবারোও ডান্ডিখ্যাত রাজশাহীর পঞ্চবটিতে বসছে মাদকের আখড়া

Read Time:5 Minute

রমজান আলী,উত্তরবঙ্গ প্রতিদিন :: পদ্মা নদীর ধারে গড়ে ওঠা মহানগরীর নাম রাজশাহী । আবহমান নদীর অপারের কিনারায় অবস্থিত প্রতিবেশী দেশ ভারত । নদী ঘেঁষা শিক্ষা নগরী রাজশাহীর প্রাকৃতিক জীবন বৈচিত্রে ভরপুর। নদী এবং সড়ক উভয় পথে রয়েছে সহজ যোগাযোগ মাধ্যম।পাশেই প্রতিবেশী দেশ ভারত।আর সেই সুবাধেই রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ এবং র‌্যাব-ডিবির চোখ ফাঁকি দিতে পারার সুযোগ থাকায় এখানে নতুন করে গড়ে ওঠেছে নিষিদ্ধ মাদকের সাম্রাজ্য। আর এই সাম্রাজ্যর অন্যত্তম অংশীদার হয়েছেন মাদকের গড মাদার হিসেবে খ্যাত শেফালী বেগম।

বিগত ১২ জানুয়ারি ২০১৭ সালে মাদক ব্যবসা ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার প্রতিশ্রুতি দিয়ে – মাদক ব্যবসায়ী মধ্যবয়সী শেফালি বেগম মঞ্চে উঠে বলেন, ‘আমি ভুল করেছি। আমি আর মাদক বেচতে চাই না। আমি নিজে বাঁচতে চাই, সমাজকে বাঁচাতে চাই।’

সেই সময় শেফালি বেগম রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) কমিশনার শফিকুল ইসলামের কাছ থেকে হাতিয়ে নেন একটি সেলাই মেশিন ও নগদ ২৫ হাজার টাকা । সে টাকা দিয়ে শুরু করেন আবারো মাদক ব্যবসা। অবশ্য সেলাই মেশিনটিও বিক্রি করেছেন আরডিএ মার্কেটের একটি টেইলার্সে।

বর্তমানে সেই শেফালী বেগম রাজশাহীর ডান্ডিখ্যাত পঞ্চবটি এলাকার মাদকের গড মাদার। কি চান তার কাছে – ইয়াবা, ফেন্সিডিল , বিদেশী মদ, গাঁজা সবই পাওয়া যায় তার কাছে। আরেক ব্যবসায়ী আকলীমার বাড়িতেই মাদক রেখে বিক্রি করেন শেফালী বেগম। সেই সাথে শেফালী বেগমের মামলার পরিসংখ্যান নিম্নরুপ –

এফ আই আর নং -২৫ তারিখ- ৭ই মার্চ ২০ সময়-সকাল ১২.৫০ মিনিট থানাঃ বোয়ালিয়া ধারাঃ ৩৬ (১)এর ৮৯ (ক) মাদকদ্রব্য আইন
এফ আই আর নং -২৯ তারিখ- ১২ই নভেম্বর ২০১৮ সময়-সকাল ১৩.৩০ মিনিট থানাঃ বোয়ালিয়া ধারাঃ ১৯(১)এর১(ক)মাদকদ্রব্য আইন
এফ আই আর নং -৩৯ তারিখ- ২২ মে ২০ ১৬ সময়-সকাল ২১.৩০ মিনিট থানাঃ বোয়ালিয়া ধারাঃ ১৯(১)এর ৭ (ক) ১৯৯০ সালের মাদকদ্রব্য আইন

অপরদিকে রাজশাহী মহানগরীর খড়বোনা এলাকার রবিউলের পুত্র পুলিশের সোর্স খ্যাত জিল্লু (৩০) নামের আরেক মাদক ব্যবসায়ীও প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসায় সংযুক্ত হয়েছে বলে একাধীক সূত্র নিশ্চিত করেছে। এক কথায় শেফালী বেগম, সোর্স জিল্লু, এবং আকলীমাই নিয়ন্ত্রন করছেন পঞ্চবটি এলাকার মাদক সিন্ডিকেট ।

 

অবশ্য সার্বিক বিষয়ে খোঁজ নেয়ার পর,রাজশাহী বোষপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এটিএসআই মনিরুল ইসলামের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন – মাদকের বিরুদ্ধে আপোষ নয়। যেহেতু বিষয়টি আমার জানা ছিলনা তাই ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হয়নি। দ্রুত শেফালি বেগমসহ তার সাথে সংশ্লিষ্ট সকল্কেই আইনের আওতায় নিয়ে আসব ইনশাল্লাহ।

তবে এলাকার লোকমূখে কথিত আছে- গুটি কয়েক পুলিশ সদস্য নিয়মিত মাশোহারা আদায় করেন এই সিন্ডিকেটের কাছ থেকে। তবে কে বা কারা এই পুলিশ সদস্য তা কোনভাবেই জানা সম্ভব হয়নি।

তবে মাদকের বিষয়ে রাজশাহীর সুশীল সমাজের ধারকরা বলেন – বাংলাদেশের সামাজিক প্রেক্ষাপট এমন হয়েছে যে, আমরা যা জানি আমরা তা মানি না,আবার আমরা যা বলি তা বিশ্বাস করি না, আবার যা বিশ্বাস করি তা বলি না। এ যেন নিজের সাথে নিজেকে লুকোচুরি করা। এমনটি হওয়ার কথা ছিল না। আজ দেশের উন্নয়ন, দুর্নীতি, মাদক, ধ্বংস আবার সৃষ্টি যেন একই সূত্রে গাঁথা। একটার সাথে আরেকটি নিবিড়ভাবে জড়িয়ে যাচ্ছে। বিধায় এ সকল বিষয়কে এখুনিই প্রতিহত করতে হবে নতুবা মাদকের কারণে হতাশায় নিমজ্জিত এমন প্রজন্ম সৃষ্টির জন্য আমরাই দায়ী থাকব।

সংবাদটি শেয়ার করুন-
  • 189
  • 167
  • 107
  • 87
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    550
    Shares

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।