করোনা থেকে উত্তরণে ছয় চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়

স্টাফ রিপোর্টার উত্তরবঙ্গ প্রতিদিন ::
কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতির মন্দাভাব বাংলাদেশেও পড়েছে এতে রাজস্ব আহরণ, রফতানি আয়, আমদানি ব্যয়সহ সামষ্টিক অর্থনীতি চাপের মুখে পড়েছে। এমন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সরকারের ব্যয় যৌক্তিকরণ, নগদ ও ঋণ ব্যবস্থাপনার উন্নয়নসহ ৬টি চ্যালেঞ্জ শনাক্ত করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। অন্যান্য চ্যালেঞ্জের মধ্যে আছে সামষ্টিক অর্থনীতির সূচক পর্যায়ক্রমে উন্নতি, অর্থ ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন ও সরকারি কর্মকর্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সঙ্গে বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তিতে এসব কর্মপরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। সেখানে আরও বলা হয়, চলতি অর্থবছরেই এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে অর্থনীতিকে চাঙ্গা করে তোলা হবে।

জানতে চাইলে পলিসি রিসার্চ ইন্সটিটিউটের নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর যুগান্তরকে বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয় যে কাজ হাতে নিয়েছে সেগুলো শেষ করতে হবে।

এক্ষেত্রে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে আরও ক্লোজ মনিটরিং করতে হবে। প্রয়োজনে তৃতীয় প্রতিষ্ঠান দিয়ে এসব কাজের মূল্যায়ন করা যেতে পারে। বিশেষ করে যেসব কাজ করার ঘোষণা দিয়েছে শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন করতে পারছে কিনা তা দেখতে হবে। তিনি বলেন, এতে ঋণ ব্যবস্থাপনার উন্নয়নের কথা বলা হয়েছে। বাংলাদেশ এক্ষেত্রে রক্ষণশীল। এটি ভালো তবে বিচক্ষণতাও লাগবে। শুধু রক্ষণশীল হলে হবে না।

প্রসঙ্গত প্রতি বছরের কর্মপরিকল্পনার একটি প্রতিশ্রুতি নিয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সঙ্গে অর্থ মন্ত্রণালয় চুক্তি হয়। এর মধ্য দিয়ে পরবর্তী এক বছরে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের জবাবদিহিতা তৈরি হয়। এ বছরও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সঙ্গে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মসম্পাদনের চুক্তি স্বাক্ষর হয়।

তবে অন্যান্য বছরের চেয়ে এবার প্রেক্ষাপট ভিন্ন। কারণ করোনা পরিস্থিতিতে অর্থনীতির প্রতিটি সূচক এখনও আগের অবস্থায় ফিরে আসেনি। এজন্য অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে আগামীর জন্য জোর দিতে হচ্ছে রাজস্ব নীতি প্রণয়ন, আর্থিক নীতিমালার গবেষণা, বিনিয়োগে কারিগরি সহায়তাকে। এছাড়া দাতা সংস্থাগুলোর সঙ্গে আরও গভীর যোগাযোগ স্থাপন, নতুন পদ সৃজন ও ব্যয়ের পরিকল্পনা, আর্থিক শৃঙ্খলাকেও গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

জানা গেছে, ইতোমধ্যে ৬ শতাংশের কাছাকাছি মূল্যস্ফীতি চলে গেছে। জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে। এছাড়া অর্থবছরের প্রথম দু’মাস জুলাই ও আগস্টে রাজস্ব আদায় লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ঘাটতি হয়েছে ১১ হাজার কোটি টাকা। আর গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫০ কোটি টাকা কম হয়েছে।

এদিকে অর্থবছরের আগস্টে প্রায় ২৯৭ কোটি ডলারের পণ্য রফতানি হয়েছে। এটি মাসভিত্তিক লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ১১ দশমিক ৭২ শতাংশ কম। তবে গেল বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় সাড়ে ৪ শতাংশ বেশি।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও সামষ্টিক অর্থনীতির সূচকগুলো পর্যায়ক্রমে উন্নতি করা হবে। বিশেষ করে রাজস্ব আহরণ, আমদানি ব্যয় ও রফতানি আয়, রেমিটেন্স, কৃষি খাত ও রিজার্ভ বাড়ানো হবে। পাশাপাশি নিয়ন্ত্রণ করা হবে মূল্যস্ফীতিকে।

অর্থ বিভাগ কর্মসম্পাদন প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, চলতি অর্থবছরে রাজস্ব, মুদ্রা ও মুদ্রা বিনিময় হার নীতির সামঞ্জস্য বিধানের লক্ষ্যে মধ্যমেয়াদি সামষ্টিক অর্থনীতি কাঠামো (এমটিবিএফ) হাল নাগাদ করার ঘোষণা দেয়া হয়। পাশাপাশি ঘাটতি বাজেট মোট জিডিপির ৬ শতাংশের মধ্যে রেখে সরকারি ঋণ ধারণ ক্ষমতা সহনীয় পর্যায়ে রাখার ঘোষণা দেয়া হয়। কারণ বিদ্যমান পরিস্থিতিতে ব্যয় বৃদ্ধির কারণে ঋণ প্রবণতা বেড়েছে সরকারের।

চলতি বছরেই সব নাগরিকের জন্য সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা চালুর কৌশলপত্র চলতি বছরে প্রণয়ন করা হবে বলে এক বছরের কর্মসূচিতে উল্লেখ করা হয়। এর আগে চলতি বাজেটে সর্বজননী পেনশন ব্যবস্থার ঘোষণা দেয়া হয়। সর্বশেষ তথ্য মতে, এজন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে। ওই কমিটি এ নিয়ে কাজ করছে।

এছাড়া ইলেক্ট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) মাধ্যমে ৬০ শতাংশ পেনশনভোগীদের সুবিধা দেয়া হবে। পাশাপাশি ইএফটির মাধ্যমে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ডাটা সংরক্ষণ করা হবে।

প্রতিবেদনে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার একটি তালিকা তুলে ধরা হয়। সেখানে বলা হয়, আর্থিক খাতে শৃঙ্খলায় আনতে একটি দক্ষ আর্থিক নীতি প্রণয়ন করা হবে। পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা অনলাইনে দেয়া হবে।

এছাড়া পেনশনসহ ভবিষ্যত তহবিল সম্পর্কিত হিসাব ও সেবার মান উন্নয়ন করার ঘোষণা দেয়া হয়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পরপর তিন অর্থবছর ৭ শতাংশের বেশি জিডিপির প্রবৃদ্ধি অর্জন হয়েছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির ধারা কিছুটা বিঘ্নিত হয়েছে এবং প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ২৪ শতাংশের মধ্যে দাঁড়িয়েছে।

এখন ভবিষ্যত প্রস্তুতি হিসেবে সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখা হবে। গড়ে তোলা হবে টেকসই ঋণ ব্যবস্থাপনা। পাশাপাশি দাফরিক কর্মকাণ্ডের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন-
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।