রাজশাহীতে সাইবার ইউনিট গঠনের নেপথ্যে যারা চিরস্মরনীয় থাকবেন

নিজস্ব প্রতিবেদক ,উত্তরবঙ্গ প্রতিদিন ::পুলিশ সদর দপ্তর বলছে, বাংলাদেশে যত ধরণের সাইবার অপরাধের হয় তার মধ্যে বেশির ভাগের বয়স ১৮ থেকে ২৪ বছর। অভিযোগের বড় অংশটি হয় অনলাইনে নানা ধরণের প্রতারণা অথবা ব্ল্যাকমেইলিং এর মাধ্যমে।

তদ্রুপ রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিকের উদ্যোগে পূর্নাঙ্গ সাইবার ইউনিট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কার্যক্রমও চলছে বেশ জোরেসোরেই।

অবশ্য এই উদ্যোগ গ্রহনের পরপরেই উদঘাটন হয়েছে বড় বড় মামলার জট। যেমন – মোবাইল উদ্ধার, ফেসবুকে হুমকি, দীর্ঘদিন পালিয়ে থাকা আসামীর অবস্থান, মোবাইলে হুমকি সনাক্তকরনসহ বিভিন্ন সাইবার অপরাধ। তবে অনস্বীকার্য যে,সাইবার ক্রাইম দমনে এক নতুন সাফল্যের দুয়ার উন্মুক্ত হয়েছে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশে। নতুন এই সেবার অধীনে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ সাইবার জগতে নিত্য নতুন অপরাধীদের মুখোশ উন্মোচন করে চলেছে প্রতিনিয়ত।

এই বিষয়ে কথা হয় রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিটের প্রধান উৎপল কুমার চৌধুরীর সাথে। নীরবে-নিভৃতে সাইবার ইউনিটে দিন-রাত কাজ করে চলেছেন এই ব্যাক্তিটি। অবশ্য বর্তমানে তিনি রাজশাহী মহানগরীর কাশিয়াডাঙ্গা জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনারের দায়িত্ব পালন করলেও সাইবার ইউনিট তার পদচারনায় হয়ে উঠেছে আরোও শক্তিশালী। আইটি বিষয়ে অগাদ পান্ডিত্য থাকা এই ব্যাক্তিটি ক্যামেরার সামনে কথা বলতে সব-সময়ই নারাজ। তারপরও সাইবার ক্রাইম দমনে এই ব্যাক্তিটির জুড়ি মেলা ভার। বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষ থেকে ভারতীয় সংস্থা ক্রিমিনাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন ( সিবিআই) থেকে উচ্চতর প্রশিক্ষনও গ্রহন করেছেন সহকারী কমিশনার উৎপল চৌধুরী।আর সেই লক্ষ্যেই রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিক সাইবার ইউনিটের প্রধান হিসেবে তাকেই নিযুক্ত করেছেন। আর এই ধারাবাহিকতায় সাইবার ইউনিট গঠনের সম্প্রতি কয়েক মাসের মধ্যেই ১৫ থেকে ২০ টি জটিল মামলার জট খুলতে সক্ষম হয় সাইবার ক্রাইম ইউনিট।

কথা প্রসঙ্গে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিটের এই বিশেষজ্ঞ বলেন- একটা সময় ছিল, যখন অপরাধের তদন্ত ও অপরাধী শনাক্তে ঢাকায় পুলিশের সাইবার ক্রাইম শাখার সহায়তা নেওয়া হতো। তবে এখন থেকে রাজশাহীতে এ ধরনের অপরাধের ঘটনাগুলোর তদন্ত ও অপরাধী শনাক্ত নিজেরাই করতে পারছে আরএমপি পুলিশ।এটা আমাদের জন্য এক আশীর্বাদ স্বরুপ। তবে কার্যত বর্তমান পুলিশ কমিশনার স্যারের উদ্যোগ ও অবদানটাই এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশী।কারন স্যারের উদ্যোগেই সাইবার ইউনিট গঠন ও পরিচালনা সম্ভব হয়েছে। এক্ষেত্রে আমি বা আমরা সহযোগী মাত্র।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা বলেছেন- সাইবার ক্রাইম ইউনিটে সহকারী কমিশনার উৎপল চৌধুরী একজন রোল মডেল হয়ে থাকবেন। কেননা বর্তমান বাংলাদেশ ডিজিটালাইজড।তাই প্রযুক্তি নির্ভর এই দেশে এমন একজন সাইবার এক্সপার্ট বাংলাদেশ পুলিশের গর্ব।

এদিকে ফেসবুকে অশ্লীল ছবি ছাড়িয়ে দেয়া বিষয়ে মিথিলা (ছদ্ম নাম) নামের এক কলেজ ছাত্রী বলেন- আমি ফেসবুকে এডিটেড ছবি দেখার পরে আমার বাবা মাকে বিষয়টি জানাই।এরপরেই বিষয়টি নিয়ে থানায় কথা বলি। থানা ততক্ষানৎ আমাকে আরএমপির সাইবার ইউনিটের সাথে কথা বলতে বলে।এরপরে অভিযোগ দিতেই সাইবার ইউনিট খুঁজে বের করতে সক্ষম হয় প্রকৃত অপরাধীকে।

ঠিক একইভাবে রাবির ছাত্র হাসান ইমামের ছিনতাই হওয়া মোবাইল ও ল্যাপটপ খুঁজে পান আরএমপির সাইবার ইউনিটের মাধ্যমে।

তবে সাইবার ইউনিট গঠনের পর পরেই কমে গেছে মোবাইলে চাঁদাবাজি, হত্যার হুমকিসহ বিভিন্ন সাইবার অপরাধ।সেই সাথে স্বস্তির নিশ্বাঃসও ফেলেছে রাজশাহীবাসী।

সংবাদটি শেয়ার করুন-
  • 308
  • 185
  • 78
  • 89
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    660
    Shares