রাজশাহী আরডিএর নীতিমালা লংঘন করে ব্যাংক কর্মকর্তা জাহাঙ্গীরের বহুতল ভবন নির্মান

নিজস্ব প্রতিবেদক,উত্তরবঙ্গ প্রতিদিন :: রাজশাহীতে বাড়ছে বহুতল ভবনের সংখ্যা। আর অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই নির্মিত হচ্ছে এসব ভবন। এসব ভবনের মালিকদের মনোভাব বেপরোয়া এবং নিয়মনীতি তারা থোড়াই কেয়ার করেন। ফলে অপরিকল্পিতভাবেই নির্মিত হচ্ছে বেশিরভাগ বহুতল ভবন, বাড়ছে ঝুঁকি।

অভিযোগ রয়েছে, মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা বহুতল ভবনের অনুমোদন দিচ্ছেন। রাজশাহী নগরীতে গত কয়েক বছরের ব্যবধানে গড়ে উঠেছে অসংখ্য বহুতল ভবন। আরডিএ থেকে ৫ তলা পর্যন্ত অনুমোদন নিয়ে নগরীতে ৮০ ভাগের বেশি বহুতল (১০-১২ তলা) গড়ে তোলা হয়েছে। আর এসব ভবনের বিষয়ে আরডিএ কোনো পদক্ষেপই গ্রহণ করছে না। এ নিয়ে কয়েক বছর ধরেই দৈনিক পত্রিকাগুলো বেশ কিছু প্রতিবেদন প্রকাশ করে।এর মধ্যে দৈনিক সোনালী সংবাদ, প্রথম আলো, বাংলাদেশ প্রতিদিন, দৈনিক কালের কন্ঠসহ বেশ কিছু পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশের পর টনক নড়ে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের।

নিম্নে প্রকাশিত প্রতিবেদনের কিছু অংশ-

রাজশাহী আরডিএ – টাকায় মেলে ভবন নির্মাণের অনুমতি!- দৈনিক কালের কন্ঠ
ইমারত বিধিমালা লঙ্ঘন: রাজশাহীতে বাড়ছে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন – দৈনিক যুগান্তর
রাজশাহী এখন বহুতল ভবনের নগরী – দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন

সরেজমিন অনুসন্ধানে রাজশাহী নগরীর মতিহার থানাধীন ছোড়াপানের মোড় এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, অগ্রনী ব্যাংক রাজশাহী ওয়াশা শাখার রিপোর্টিং অফিসার জাহাঙ্গীর কোন নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করেই নির্মান করছেন বহুতল ভবন। এলাকাবাসীর মধ্যে অনেকেই আরডিএ অফিসে অভিযোগ করেও সুফল পাচ্ছেননা বলে অভিযোগ উঠেছে। আরডিএর বিধি মোতাবেক জানালার সানসেট, ড্রেন ও কক্ষ নির্মানেও রয়েছে এলাকাবাসীর বিস্তর অভিযোগ। এই বিষয়ে এলাকাবাসী অগ্রনী ব্যাংক রাজশাহী ওয়াশা শাখার রিপোর্টিং অফিসার জাহাঙ্গীরকে অভিযোগ দিতে গেলেই তিনি উল্টো এলাকাবাসিদেরই চাদাবাজ আখ্যা দিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ভীতি সঞ্চার করে রেখেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন বেশ কয়েকজন এলাকাবাসী। এ বিষয়ে রিপোর্টিং অফিসার জাহাঙ্গীর থানাতে অভিযোগ দিলে মির্জাপুর পুলিশ ফাড়ীর ইনচার্জ দীপ্ত ঘটনার সত্যতা পাননি বলে জানিয়েছেন।

বরং অনুসন্ধানে জানা যায়, ব্যাংক কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আবাসিক এলাকায় রড,বালু সিমেন্ট রাস্তার উপরে ফেলে রেখে প্রতিনিয়ত এলাকাবাসীর চলাচলের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃস্টি করে রেখেছেন। কিন্তু তারপরও তার ভয়ে মূখ খুলছেননা কেহই। কখনো রাসিক মেয়রের পিএসের খালাত ভাই আবার কখনো নিজেই রাজনৈতিক নেতা দাবিদার এই ব্যাংক কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর যেন সকল ক্ষমতার মালিক।

এ বিষয়ে ব্যাংক কর্মকর্তা জাহাঙ্গীরের অগ্রনী ব্যাংক রাজশাহী ওয়াশা শাখা অফিসে সরাসরি কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান – অগ্রনী ব্যাংক রাজশাহী ওয়াশা শাখা অফিসের ম্যানেজার সাইফুর রহমানের সাথে কথা বলতে বলেন। তিনি এও বলেন- মতিহার থানাধীন ছোড়াপানের মোড় এলাকায় বিল্ডিং নির্মান হচ্ছে তা ব্যাংকের। আমি সাংবাদিকদেরও কোটি টাকা লোন পাশ করিয়ে দিই,আমার বিরুদ্ধে কথা বলার কেউ নেই।কিন্তু আপনি কোথাকার সাংবাদিক ?

পরবর্তীতে অগ্রনী ব্যাংক রাজশাহী ওয়াশা শাখা অফিসের ম্যানেজার সাইফুর রহমান সাংবাদিকদের জানান – জাহাঙ্গীর সাহেবের বিল্ডিং নির্মানের কি তথ্য আপনারা জানতে চান আমাকে বলুন আমি বলব। এ সময় উপস্থিত সাংবাদিকরা কিংকর্তব্যবিমুড় হয়ে যান – স্বভাবতই প্রশ্ন জাগে, প্রকৃত পক্ষে মতিহার থানাধীন ছোড়াপানের মোড় এলাকার নির্মানাধীন বিল্ডিংটি ব্যাংক কর্তৃপক্ষের  নাকি ব্যাংক ম্যানেজারের।

রাজশাহী আরডিএর নীতিমালা লংঘন করে ব্যাংক কর্মকর্তা জাহাঙ্গীরের বহুতল ভবন নির্মানপরবর্তিতে ব্যাংক ম্যানেজার সাইফুরের বিষয়ে জানতে গেলে উঠে আসে ভিন্ন চিত্র। অগ্রনী ব্যাংক রাজশাহী ওয়াশা শাখার ভুক্তভোগী ব্যাংক গ্রাহক সুমন চৌধুরী জানান, অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড বাংলাদেশের অন্যতম রাষ্ট্রায়ত্ব বাণিজ্যিক ব্যাংক। এর আগেও অনেক ম্যানেজার দেখেছি কিন্তু সাইফুর রহমানের মতো দাম্ভিকতা পূর্ণ ম্যানেজার দেখিনি। তার জন্যে গ্রাহকেরা ব্যাংক ছাড়ছেন এমনকি তার ভয়ে সাধারণ ঋণ নিতেও আসতে চান না। আর ব্যাংক ম্যানেজার তার অনুগত কিছু দালালের মাধ্যমে উচ্চ সুদে দাদন ব্যবসা করছেন। তিনি বলেন, বিভিন্ন কৌশলে ম্যানেজার সাহেব মোটা অংকের ঘুষ নিয়েও লোন প্রদান করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ঋণ গ্রহীতা বলেন, অগ্রনী ব্যাংক রাজশাহী ওয়াশা শাখাটি একটি দালাল চক্র নিয়ন্ত্রণ করছে। ঋণ নিতে গেলে ম্যানেজার আগে কাগজপত্র দেখার নামে তার সঙ্গে যোগযোগ করতে বলেন। বিষয়টি ফাঁস করলে ঋণ দেবেন না বলে হুঁশিয়ারি দেন।

তবে সার্বিক বিষয় নিয়ে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) সাথে যোগাযোগ করা হলে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষর পক্ষ থেকে জানানো হয় – এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে কয়েকটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে ,আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখে ব্যবস্থা গ্রহন করব।

সংবাদটি শেয়ার করুন-
  • 2K
  • 1.5K
  • 1.5K
  • 967
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    5.9K
    Shares

মন্তব্য নেই

আপনার গুরুত্বপূর্ন মতামত দিন