বিশেষ বিজ্ঞপ্তি :
সুপ্রিয় সন্মানিত পাঠক, আপনি কি উত্তরবঙ্গ প্রতিদিনের নিয়মিত পাঠক? আপনি কি এই পত্রিকায় লিখতে চান? কেন নয় ? সমসাময়িক যেকোনো বিষয়ে আপনিও ব্যক্ত করতে পারেন নিজের চিন্তা, অভিমত, পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ। স্বচ্ছ ও শুদ্ধ বাংলায় যেকোনো একটি সুনির্দিষ্ট বিষয়ে  লিখে পাঠিয়ে দিতে পারেন ইমেইলে কিংবা ফোন করেও জানাতে পারেন আপনাদের।  আমাদের যে কোন সংবাদ জানানোর ৩টি মাধ্যম।🟥১। মোবাইল: ০১৭৭৭৬০৬০৭৪ / ০১৭১৫৩০০২৬৫ 🟥২। ইমেইল: upn.editor@gmail.com🟥৩। ফেসবুক : facebook.com/Uttorbongoprotidin  

পাবনা আতাইকুলা থানা থেকে এসআইয়ের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার জেলা পরিক্রমা

পাবনা আতাইকুলা থানা থেকে এসআইয়ের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার
পাবনা আতাইকুলা থানা থেকে এসআইয়ের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার

যশোর প্রতিনিধি,উত্তরবঙ্গ প্রতিদিন :: পাবনার আতাইকুলা থানার ছাদ থেকে এসআই হাসান আলীর গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয় রোববার সকালে। পুলিশের দাবি হাসান আলী আত্মহত্যা করেছেন। তবে হাসানের পরিবারের দাবি- তার মৃত্যুর জন্য থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দায়ী।

হাসান আলীর বাবা আব্দুল জব্বারের দাবি, বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তাকে ছাড়পত্র দেননি। এ কারণে তাকে লাশ হতে হলো। এজন্য থানার ওসিই দায়ী।

পাবনার আতাইকুলা থানায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত এসআই হাসান আলীর বাড়ি কেশবপুরের বালিয়াডাঙ্গা গ্রামে। তার পিতা আব্দুল জব্বার পেশায় রিকশাভ্যানচালক। অনেক কষ্টে ছেলেকে কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়িয়েছেন।

দুই বছর আগে হাসান আলী পুলিশের এসআই পদে নিয়োগ পান। তার পিতা এখনও রিকশাভ্যান চালান।

সোমবার ভোর রাতে হাসান আলীর লাশ বাড়িতে পৌঁছালে এলাকায় এক হৃদয় বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরিবারের লোকসহ এলাকার সব ধর্ম বর্ণের মানুষ কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। সোমবার হাসানের লাশ জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

এসআই হাসানের মাতা-পিতা দাবি করেছেন তাদের সন্তানকে বিসিএস পরীক্ষায় অংশ গ্রহণের জন্য জেলার ঊর্ধ্বতন পুলিশ অফিসার ছুটি মঞ্জুর করলেও ওসি তাকে ছাড়পত্র দেয়নি। যে কারণে তাদের সন্তানের লাশ পেতে হলো। এজন্য উক্ত থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দায়ী।

আতাইকুলা থানার ওসি কামরুল ইসলাম সরাসরি এ ঘটনা অস্বীকার করেন। তার ভাষায়, এসআই হাসান আলী বিসিএস পরীক্ষা দেবেন একথা তিনি জানতেন না। তার ছুটি মঞ্জুর হলেও তিনি ছুটিতে যাননি।

কোনো কোনো মিডিয়ায় প্রেম সংক্রান্ত ঘটনায় এসআই হাসান আলীর মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করলেও ওসি সে ঘটনা অস্বীকার করেন।

এলাকার রুপালী দাস বলেন, তাদের সামনে হাসান আলী বড় হয়েছেন। কখনো কারও সঙ্গে সামান্য ঝগড়া হয়নি।

পিতা-মাতার আশা ছিল তাদের সন্তান চাকরি করে সংসারের সচ্ছলতা ফেরাবে। তার পিতা বলেন, ছেলেকে বলেছেন সে যেন কোনো অবৈধ টাকা না নেয়। জীবনে যেন কোনো নিরীহ মানুষকে হয়রানি না করে। তাদের ছেলে জীবনের শেষ সময়ও অবৈধ টাকা নেয়নি। তাদের বাড়ি টালির ছাউনি ও মাটির দেয়ালের ঘর স্পষ্ট জানান দেয় এখনও দুমুঠো ভাতের জন্য রিকশাভ্যান চালাতে হয় হাসান আলীর বাবাকে।

প্রতিবেশী আব্দুল গফুর বলেন, হাসান আলী বিসিএস ক্যাডার হয়ে দেখাতে চেয়েছিল রিকশাভ্যান চালকের ছেলে বিসিএস ক্যাডার হতে পারে। আজ এসব কেবল স্বপ্ন। তার পিতা চেয়েছিলেন মাটির দেয়ালের ঘরে বড় হয়েও তার সন্তান দেশের সেবা করবে সম্পূর্ণ নিঃস্বার্থ ভাবে।

পাবনা জেলার আতাইকুলা থানার ছাদে রোববার সকাল ৯টায় এসআই হাসান আলীর গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয় বলে জানান থানার ওসি।

সংবাদটি শেয়ার করুন-
  • 70
  • 58
  • 84
  • 37
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    249
    Shares


© All rights reserved © 2016-2021 24x7upnews.com - Uttorbongo Protidin Trusted Online Newsportal from Rajshahi, Bangladesh.