অপরাধীদের অভয়ারণ্য এখন রাজশাহী বেলপুকুর থানা

অপরাধীদের অভয়ারণ্য এখন রাজশাহী বেলপুকুর থানা স্টাফ রিপোর্টার।। উত্তরবঙ্গ প্রতিদিন

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের সম্মানিত পুলিশ কমিশনার জনাব আবু কালাম সিদ্দিকের বিশেষ তৎপরতায় রাজশাহী মহানগরীর ১২ টি থানার অধিকাংশ থানা এলাকায় এখন মাদক ব্যবসা প্রায়ই বন্ধ। সেই সাথে গ্রেফতার আতংকে ঘর ছাড়া হয়েছে অনেক মাদক ব্যবসায়ী।

কিন্তু পক্ষান্তরে অপরাধীদের অভয়ারণ্য পরিনত হয়েছে এখন রাজশাহী বেলপুকুর থানা। রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের অর্জনগুলো যেন বেলপুকুর থানার কাছে অনেকটা অসহায়। কারন এখানে হাত বাড়ালেই পাওয়া যাচ্ছে ইয়াবা ও ফেনসিডিল। স্থানীয়দের অভিযোগ রাজশাহী বেলপুকুর থানা এলাকায় মাসিক মাসোহারায় চলছে অর্ধশত মাদক স্পট।

এ বিষয়ে সরেজমিন অনুসন্ধানে গেলে বেলপুকুর এলাকার স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে রাজশাহী কলেজের শিক্ষক সাইফুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান- পুলিশ ব্যাস্ত শুধু চুরি-ছিনতাই প্রতিরোধ নিয়ে, মাদক নির্মূলে এই থানার নেই কোন কার্যকারী পদক্ষেপ।

অন্যদিকে বেলপুকুর থানাধীন ভড়ুয়াপাড়া এলাকার আজিজ মাস্টার সাংবাদিকদের জানান – একদিকে মাদক ব্যবসায়ীদের অত্যাচারে এলাকায় বাস করা দ্বায় এবং অন্যদিকে ফসলী জমি উজাড় করে একের এক পুকুর খনন করা হচ্ছে আর পুকুর খননের মাটি যত্রতত্র ফেলে রাস্তায় চলাচলের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। অথচ এই দিকে কেউ যেন দেখেও দেখেনা। পুলিশ মাদক স্পটেও আসে এবং পুকুর খননেও আসে কিন্তু কোনটায় বন্ধ হয়না।

এদিকে বেলপুকুর থানার সার্বিক বিষয়ে খোঁজ নিতে গিয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক মেম্বার জানান – অত্র এলাকায় মাদক স্পটও চলে সেই সাথে অবৈধভাবে পুকুর খননও চলে। আর বেলপুকুর থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই সাইমন ক্যাসিয়ারের দ্বায়িত্ব পালন করেন রীতিমত। পুকুর খনন করলে ৫০ হাজার এবং মাদক স্পট চালালে ৫ হাজার এসআই সাইমনের মাধ্যমে ওসিকে দিতে হয়।

অন্যদিকে সরেজমিন মাদক স্পটে
অনুসন্ধানে গিয়ে দেখা যায়, শহর থেকে অসংখ্যা মোটরসাইকেল যাতায়াত করছে,যাদের বেশীর ভাগই মাদকসেবী কিন্তু এসময় মাদক স্পটের ব্যবসায়ীরা সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে গা ঢাঁকা দেয় এবং শহর থেকে আসা মোটর সাইকেল আরোহীরাও গাড়ী ঘুরিয়ে নিয়ে আবার শহরের দিকে চলে যায়।

আরেক দিকে ভড়ুয়া পাড়া এলাকায় সরেজমিন গিয়ে দেখা যায় – ২ টি পুকুর খনন হচ্ছে অত্র এলাকায়। অথচ স্থানীয় টিএনও কিংবা ইউএনওর কোন অনুমোদনপত্র নেই তাদের কাছে।শুধুমাত্র থানার মাধ্যমে যোগাযোগ করে তারা পুকুর খনন করছেন।

এ সময় পুকুর খননকারী শরীফ সাংবাদিকদের জানান – ভাই ছবি তুলে লাভ নেই, থানা ভুল করেও আসবেনা সেই ব্যবস্থা আগেই করে রেখেছি।আপনারা চা – পানি খান আর ভদ্র লোকের মত চলে যান।বেশী ছবি তুললে পুলিশের লাঠির বাড়ি বেশী খাবেন।

উক্ত ঘটনার সত্যতা যাঁচাইয়ের জন্য সাংবাদিকরা থানায় ফোন দিয়ে পুকুর খননের বিষয়টি অবগত এ বিষয়ে কোনই পদক্ষেপ নেয়নি কর্তৃপক্ষ।

সংবাদটি শেয়ার করুন-
  • 210
  • 196
  • 199
  • 134
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    739
    Shares

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।