রাজশাহী কর্নহারে বিঘা প্রতি ২০ হাজারে মিলছে অবৈধ পুকুর খননের অনুমতি নেপথ্যে কর্নহার থানার ওসি তুহিন- ভিডিওসহ

যখন গণমাধ্যমে পুলিশের দূর্নীতির কোন সংবাদ প্রকাশ হয় তখন পুলিশ অফিসাররা তাদের উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রায়ঃশই বলে থাকেন- সাংবাদিকরা ভালোনা স্যার,খুব খারাপ এরা। একটু কিছু হলেই লেগে পড়ে পুলিশের বিরুদ্ধে,ওমুক সাংবাদিকের সাথে স্যার আমার সম্পর্ক ভালনা তাই স্যার আমার নামে নিউজ করা হয়েছে।

আর কেন জানি সেটা বিশ্বাসও করেন কর্তা ব্যাক্তিরা। বিধায় জন্ম হয় আলোচিত সিলেটের এসআই আকবরের মত পুলিশ অফিসারের কিংবা ওসি প্রদীপের মত দুর্নীতিবাজ পুলিশ কর্মকর্তার। আর সামান্য ২/১ জন পুলিশ কর্মকর্তার কারনেই ম্লান হয়ে যাচ্ছে পুলিশের সমুস্টিগত কাজের অবদান।

করোনা যখন বিশ্বকে কুপোকাত করে দিচ্ছে ঠিক তখনই কিছু পথভ্রষ্ট পুলিশ সদস্য আবার অনৈতিক কর্মকান্ডে ব্যাস্ত হয়ে পড়েছেন।

এরই মধ্যে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কর্নহার থানার ওসি তুহিন একজন আলোচনা ও সমালোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে পরিনত হয়েছেন। কর্নহার থানাধীন এলাকার অধিকাংশ মানুষের ক্ষোভ এখন কর্নহার থানার ওসি তুহিনের উপর।এমনকি অত্র এলাকার কম বেশী জনপ্রতিনিধিরাও ওসি তুহিনের আচার -ব্যবহারের উপর অসন্তোস প্রকাশ করেছেন বৈকী।

মূলত অত্র এলাকায় গ্রেফতার বানিজ্য, অবৈধ পুকুর খননের মৌখিক অনুমোদনসহ বিভিন্ন পারিবারিক সালিষের ক্ষেত্রেও পক্ষ-পাতিত্বমূলক আচরন ও পরিশেষে তার ব্যবহারেও অসন্তুষ প্রকাশ করেছেন এলাকার অধিকাংশ মানুষ।

সেই সাথে ওসি তুহিনের বিরুদ্ধে জনপ্রতিনিধিরাও অভিযোগ তুলেছেন জামাত-শিবিরের সাথে সংশ্লীষ্টতার।বিধায়
থানার এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেখা যায়- রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের অন্যান্যা থানায় জামাত শিবিরের নাশকতার আসামী গ্রেফতার হলেও জামাত অধ্যুষিত এই এলাকায় খুব একটা গ্রেফতারের রেকর্ড নেই।কারন অত্র এলাকার অধিকাংশ জামাত-শিবিরের নেতারাও ওসির বাড়ীর বাজারটাও করে দিয়ে আসেন।বিধায় ওসি তুহিনের সাথে জামাত-শিবিরের সম্পর্ক কেমন তা সহজেই অনুমেয়।

উক্ত বিষয়গুলো নিয়ে সরেজমিনে অনুসন্ধানে সাংবাদিকরা কর্নহার থানা এলাকায় গেলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে অধিকাংশ এলাকাবাসী সাংবাদিকদের জানান – ওসি তুহিন যোগদানের পর থেকেই অত্র কৃষি প্রধান এই এলাকায় এক শ্রেনীর অসাধু পুকুর খনন ব্যবসায়ীদের সাথে যোগসাজশে পুকুর খননের বিশাল বানিজ্যে লিপ্ত হয়েছেন।

স্থানীয়রা বাসিন্দারা আরো জানান – বিঘা প্রতি ২০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়ে অত্র এলাকায় প্রায় ২০০ বিঘা পুকুর খননের দায়িত্ব সম্পাদন করেছেন এই ওসি।যা এখনও চলমান রয়েছে।

এদিকে সার্বিক বিষয় নিয়ে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কর্নহার থানার ওসি তুহিনের সাথে যোগাযোগ করলে ওসি তুহিন জানান – আমি ব্যাস্ত আছি, ঘন্টা খানেক পরে আসেন নতুবা অন্য সময় আসেন একথা বলেই ফোন কেটে দেন এই ওসি।

 

একদিকে সারাদেশ যখন করোনার ২য় ঢেউয়ে সবাই কুপোকাত ঠিক তখনও রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ নিজেদের ডিউটি করার সাথে সাথে হত দরিদ্রদের ঘরে ঘরে গিয়ে খাবারসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি পৌছে দিচ্ছে দ্বার গোড়ায়। বিধায় সকলেই স্যালুট জানিয়েছেন রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের এই মহানুভবতাকে। সেই সাথে সকল স্তরেও প্রশংষিতও হয়েছেন রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিক।

অন্যদিকে বর্তমান পুলিশ কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিকের প্রচেষ্টায় রাজশাহী মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে তৈরী হয়েছে মানবতার দেয়াল। রমজান মাস ব্যাপী হত দরিদ্রদের মাঝেও মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে বিতরন করা হয়েছে ডাল-চালসহ নিত্য নৈমিত্তিক প্রয়োজনীয় খাবার সামগ্রী।

তবে রাজশাহীর সুশীল নাগরিক সমাজ তথা অভিজ্ঞ মহল মনে করছেন – সামান্য ২/১ জন পুলিশ কর্মকর্তার কারনেই ম্লান হয়ে যাচ্ছে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের সমুস্টিগত কাজের গৌরব। সেই সাথে বিবেক বর্জিত এই সকল পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যদি এখুনিই যথাযথ ব্যবস্থা না গ্রহন করা হয় তবে ‘মানবিক পুলিশ’ শব্দটি সাধারন মানুষের কাছ থেকে অতি দ্রুত হারিয়ে যাবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন-
  • 747
  • 537
  • 395
  • 284
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    2K
    Shares

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।