বিখ্যাত পর্নস্টার থেকে ধর্মযাজক

বিখ্যাত পর্নস্টার থেকে ধর্মযাজক বিনোদন রিপোর্ট। উত্তরবঙ্গ প্রতিদিন

পর্ন ইন্ডাষ্ট্রিতে কাজ করার সুবাদে এক সময় অনেক টাকা উপার্জন করেছি। প্রথম যখন কাজ শুরু করি তখন প্রতিদিন আমার উপার্জন ছিলো ৩০ হাজার ডলার। আমার সংগ্রহে ছিলো ব্র্যান্ড নিউ মার্সিডিজ। কিন্তু নীলছবির দুনিয়া থেকে সরে এখন ধর্ম প্রচারণায় আত্মনিয়োগ করেছি। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ধর্ম নিয়েই বাঁচতে চাই।’ কথাগুলো বলেছেন একসময়ের জনপ্রিয় পর্ণস্টার ব্রিটনি দে লা মোরা।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন ব্রিটনি। ২০০৫ সালে সবে আঠারো বছর বয়সেই নীলদুনিয়ার জগতে পা বাড়ান এই নারী। জনপ্রিয় এই পর্ন তারকা ২৭৫টি নীল ছবিতে কাজ করেছেন। ২০১০ সালে সেরা দশ নারী পর্ণ তারকার তালিকায় জায়গা করে নেন। এমনকি টপ হান্ড্রেড হটেস্ট পর্ন তারকার মধ্যেও তার নামটি ছিলো ১৭ তে। এরপরই ২০১২ সালে পর্ন ইন্ডাষ্ট্রি থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেন ব্রিটনি।

সম্প্রতি, এক সাক্ষাৎকারে ব্রিটনি জীবনের আদ্যেপান্ত সম্পর্কে জানিয়েছেন। কিভাবে নীল দুনিয়া ছেড়ে জাগতিক দুনিয়ায় ফিরে এলেন এবং কেনই বা ধর্মযাজক হিসেবে নিজেকে আত্মনিয়োগ করলেন। ব্রিটনি বলেন, ‘২০০৫ সালে যখন কাজ শুরু করি তখন নিজের দাম বাড়াতে অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে। কারণ মাদকে আসক্ত ছিলাম। প্রতি সপ্তাহে হাজার হাজার ডলার খরচ হতো ড্রাগস কিনতে। প্রথমে কোকেন দিয়ে শুরু করলেও পরবর্তীতে হিরোইনে মারত্মকভাবে আসক্ত হয়ে পড়ি।’

নীল জগতে পা রাখার ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘পরিবার সময় দিতো না। সবে কিশোরি। পরিবারে বিশৃঙ্খলা লেগেই থাকতো। খুব একা মনে হতো নিজেকে। ভালোবাসা পেতে বিভিন্ন জনকে বিশ্বাস করে ঠকেছি। একদিন বন্ধুদের সঙ্গে ক্লাবে যাওয়ার পর তারা প্রায় জোর করেই মদ খাওয়ায়। প্রথমবারের মত স্ট্রিপ ক্লাবের পরিবেশ সম্পর্কে ধারণা হয়। এরপর বন্ধুরা আমাকে স্ট্রিপ ড্যান্সের জন্য স্টেজে উঠিয়ে দেয়। এরপর থেকেই নাইট ক্লাবে যাওয়ার অভ্যাসটা জন্মে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ে দু’জন পরিচালকের চোখ পড়ে আমার উপর। তখনও আমি বুঝিনি যে তারা নীল ছবির কারিগর। কারণ তারা রোমান্স ঘরানার ছবির প্রস্তাব দেয়। এবং তারা বলে যদি অভিনয় করি তবে একদিন না একদিন স্টার বনে যাবো। পরবর্তীতে যদিও তাদের কথাবর্তায় বুঝতে পেরেছিলাম, তারা আমাকে পর্ন ছবির জন্য সিলেক্ট করেছে। কোন কিছু না ভেবেই তাদেরকে হ্যাঁ বলে দেই। কারণ পিছুটান কিংবা কারো কাছ থেকে অনুমতি নেয়ার প্রয়োজন ছিলো না। এরপর ফুল-টাইম কাজ করা শুরু করলাম। আর ব্যস্ততার কারনে লেখাপড়া থেকেও ছিটকে পড়লাম।’

এবার নেশা ছাড়ার পালা! এ বিষয়ে ব্রিটনি বললেন, ‘ড্রাগস থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেয়ার চেষ্টা শুরু করলাম। যখন এক পরিচালক আমাকে হুশিয়ারি দিলেন, মোটা হয়ে যাচ্ছি! সত্যিই তখন ওজন ১৫০ পাউন্ডস ছাড়িয়েছিলো। এরপর নেশার আসক্তি ভূলতে শুরু করলাম। তবে যে কাজটি করতাম তাতে আর মন বসাতে পারলাম না। স্ক্রিনে দেখাতে হচ্ছে অনেক খুশি হয়ে কাজটি করছি কিন্তু মনের ভেতর রাগ-ক্ষোভ জমে থাকতো। কিছুতেই আর কাজে মন বসাতে পারলাম না।’

ক্রমাগত হতাশা বাড়তেই থাকলো। এমনকি আমি আত্মহননেরও চেষ্টা করেছিলাম। একদিন মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে দাদিকে ফোন করেছি, তখনই ভাবতে থাকি সে যদি ফোনটি না ধরে তবে মরে যাবো। ভাগ্যিস দাদি ফোনটি ধরে এবং হাউ হাউ করে কেঁদে ফেলি। দাদি আমাকে লস অ্যাঞ্জেলসের বাড়ি থেকে নিজের কাছে সান ডিয়েগাতে নিয় যান। দাদির অনুপ্রেরণায় চার্চে যাওয়া শুরু করি। প্রতিবার চার্চের সুন্দর পথ দিয়ে যাওয়ার সময় ভাবতাম আমার জীবনের পথ যদি এমন সুন্দর ও পরিষ্কার হত! আক্ষেপ নয় বরং ২০১২ সালে পর্ন ইন্ডাষ্ট্রি ছেড়ে দেয়ার পর এখন সে পথেরই পথিক।

ব্রিটনি কর্নারস্টোন চার্চে নিয়মিত যেতে শুরু করেন। সেখানকার ধর্মযাজক রিচার্ড ডি লা মোরার প্রচারণায় অংশ নিতে নিতে এক বছরের মধ্যে তার প্রেমে পড়েনে এই নীল জগতের তারকা। ২০১৬ সালে ব্রিটনি ও রিচার্ড বিয়ে করেন। এরপর থেকে ব্রিটনি বিভিন্ন পর্ন কনভেনশনে উপস্থিত থেকে পবিত্র বাইবেলের উপদেশ সম্পর্কে সবাইকে জানানো শুরু করেন। এভাবেই শুরু হয় ব্রিটনির ধর্ম প্রচারণার কাজ। তিনি এই কাজে আনন্দ পেতে শুরু করেন।

রিচার্ড বলেন, ‘ব্রিটনির আকাশ-পাতাল পরিবর্তনে আমি অত্যন্ত খুশি। এক জীবনে সে দু’বার বেঁচে আছে কারণ পূর্বের জীবনে সে শারীরিকভাবে বেঁচে থাকলেও মানসিকভাবে মরে গিয়েছিলো। সে নিজের সদিচ্ছায় সত্যের পথে, সুন্দরের পথে ও ধর্মের পথে এসে পুনরায় জীবন লাভ করেছে।’

বর্তমান জীবন প্রসঙ্গে ব্রিটনি বলেন, রিয়েল এস্টেট এজেন্ট হিসেবে কাজ করছি। যত কম অর্থই উপার্জন করি না কেন এখন আর পোশাক খুলতে হয় না। অনেক শান্তিতে জীবন-যাপন করছি। এখন কোন অনুশোচনা ছাড়াই জীবন যাপন করছি। তবে এটা সত্য যে আমি যদি সে জগতে পা না বাড়াতাম তবে এখন যে পথে এসেছি সে পথেও হয়ত আসতে পারতাম না।

সংবাদটি শেয়ার করুন-
  • 23
  • 11
  • 5
  • 8
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    47
    Shares

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।